লিটন দাস মোটামুটি হইচই ফেলে দিয়েছেন দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্বাচকদের বিরুদ্ধে।
তবে লিটনও জবাব পেয়ে গেছেন তাৎক্ষণিক। সেই জবাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে আজ চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন লিটন দাস। সেখানে শামীম হোসেন পাটওয়ারিকে দল থেকে বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে নির্বাচকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
লিটন বলেন, “(শামীম) থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। ইটস নট মাই কল, টোটালি সিলেক্টরস কল। আমি জানি না কেন….তবে নির্বাচকরা আমাকে কোন কিছু নোটিশ করা ছাড়াই শামীমকে বাদ দিয়ে দিয়েছে দল থেকে….উইদাউট এনি নোটিশ। আমি এতোদিন জানতাম যে একটা দল যখন কেউ হ্যান্ডল করে, অন্তত অধিনায়ক জানে যে কোন ক্রিকেটার কখন দলে আসবে, কখন বাইরে যাবে।”
“আমি আশা করি, বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্রিকেটারই সেরা ক্রিকেটার। এইজন্যই জাতীয় দলে আছে। যে ১৫ জনকেই নেওয়া হোক না কেন, তারাই ভালো করবে। তবে শামীমকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো কারণ আমি দেখি না। জানিও না, কেন বা পড়েছে সে।”
ক্ষুব্ধ লিটন, কাঠগড়ায় নির্বাচকরা
এখানেই থেমে থাকেননি লিটন। তিনি আরও বলেন, “আমাকে পুরোপুরি বলা হয়েছে, সিলেক্টর প্যানেল থেকে এবং বোর্ড থেকে যে আমাকে যে দলটা দেওয়া হবে, আমি সেই দলটা নিয়েই কাজ করতে হবে। এখানে আমার বলার কিছু থাকবে না যে, আমি কোন ক্রিকেটারকে চাই, কাকে চাই না। আমি এতোদিন জানতাম, একটা মানুষ যখন অধিনায়ক, তার একটা দল গোছানোর একটা পরিকল্পনা থাকে। তব সম্প্রতি কয়েকদিন থেকে জানতে পারলাম, যে দলটা আমাকে দেওয়া হবে, আমার কাজ হচ্ছে সেই দলটাকে নিয়েই মাঠে ভালো কিছু দেওয়া।”
লিটনের এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা।
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, “ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে আমরা (লিটনের সঙ্গে) বসেছিলাম কিছু সময়ের জন্য। তো আমাদেরকে লিটন বলেছিল যে সে শামীমকে দলে চায়। এটা সত্য যে শামীমকে লিটন দলে চেয়েছিল। অবশ্য কোচ দলের ব্যাটিং নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল না।”
“যে কারণে আমরা প্রথম দুই ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছি। আমাদের দল একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ড (স্কোয়াড) এটা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সব জায়গায় যদি অধিনায়কের মতামত নিয়েই দল হয়, তাহলে তো সিলেকশন কমিটির আর দরকার হয় না!”

