উলভসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক উদযাপনে চেলসি তারকা কোল পালমার।কোল পালমারকে কি দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপে? ছবি: পিএ

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৪ মাস। ঠিক এমন সময়েই নিজের সামর্থ্যের এক জাদুকরী স্মারক তুলে ধরলেন কোল পালমার। শনিবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে উলভসের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে চেলসিকে ৩-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। চোট আর ফর্মহীনতায় জর্জরিত একটি মৌসুম কাটানোর পর পালমারের এই প্রত্যাবর্তন থমাস টুখেলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

উলভসের বিপক্ষে ম্যাচে পালমার ছিলেন তাঁর চেনা মেজাজে। দুই গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে, যেখানে গোলরক্ষককে উল্টো দিকে পাঠিয়ে তাঁর সেই সিগনেচার ‘আইস-কুল’ ফিনিশিং ছিল দেখার মতো।

কুঁচকির চোটের কারণে চলতি মৌসুমে অধিকাংশ সময় মাঠের বাইরে থাকা পালমারের গোল সংখ্যা এই এক ম্যাচেই ৪ থেকে বেড়ে ৭-এ দাঁড়িয়েছে।

চেলসির নতুন কোচ লিয়াম রোজেনিওর পালমারকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানি সে বিশ্বমানের খেলোয়াড়। যখন সে নিজের সেরা ফর্মে থাকে, তাকে আটকানো অসম্ভব।”

ইংল্যান্ড স্কোয়াডে পালমারের জায়গা কোথায়?

পালমারের এই পারফরম্যান্স সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলের দিকে। সাবেক লিভারপুল তারকা ড্যানি মারফির মতে, পালমার যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে বিশ্বকাপে তাঁর জায়গা নিশ্চিত।

মারফি বলেন, “সে উইংয়ে খেলতে পারে, আবার ‘নাম্বার ১০’ হিসেবেও দুর্দান্ত। সে বল পায়ে অত্যন্ত মার্জিত এবং কাউকে ভয় পায় না।”

তবে কাজটা খুব সহজ হবে না। কারণ থমাস টুখেলের অধীনে পালমার এখন পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচে (অ্যান্ডোরার বিপক্ষে) সুযোগ পেয়েছেন।

রজার্স-বেলিংহ্যামের সাথে ত্রিমুখী লড়াই

বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে পালমারকে লড়তে হচ্ছে অ্যাস্টন ভিলার মরগান রজার্স এবং রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহ্যামের সাথে। সাবেক ডিফেন্ডার নেডাম ওনুয়োহার মতে, বর্তমানে রজার্স ও বেলিংহ্যাম দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। এমনকি সাবেক চেলসি স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন সরাসরিই বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমি পালমারকে নয়, রজার্সকেই আগে বেছে নেব।”

চেলসির হয়ে পালমারের পরিসংখ্যান অবশ্য তাঁর পক্ষেই কথা বলে। গত দুই মৌসুমে ৩৭টি প্রিমিয়ার লিগ গোল করা এই খেলোয়াড় ক্লাবের হয়ে ৪৬ ম্যাচে ১৫টি গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন।

বিশ্বকাপের আগে আগামী ২৭ মার্চ উরুগুয়ে এবং চার দিন পর জাপানের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। টুখেলের গুডবুকে নাম লেখানোর জন্য পালমারের কাছে এই দুই ম্যাচই হবে শেষ বড় সুযোগ।