ক্রাইস্টচার্চে বিধ্বংসী ব্যাটিং করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্টারহুইজেন।দক্ষিণ আফ্রিকার কনর এস্টারহুইজেন। ছবি: গেটি

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কনর এস্টারহুইজেনের ফেরার ফ্লাইটে মালামালের বোঝা কিছুটা বেশিই হবে। সঙ্গে থাকছে দুটি ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার, একটি ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ ট্রফি এবং বোনাস হিসেবে অধিনায়কের দেওয়া একটি ব্র্যান্ড নিউ ব্যাট!

ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ১৮৭ রানের পাহাড় গড়ে প্রোটিয়ারা। রান পাহাড়ে চড়ার মূল কারিগর ছিলেন এস্টারহুইজেন। মাত্র ৩৩ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৭৫ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি। জবাবে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে ১৫৪ রানেই থমকে যায়। ৩৩ রানের জয়ে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় কেশব মহারাজের দল।

অধিনায়কের সেই বিশেষ বাজি

ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কেশব মহারাজ এক মজার রহস্য ফাঁস করেন। মহারাজ বলেন, “আমি ওকে (এস্টারহুইজেন) বলেছিলাম, আজ যদি তুমি ৭৫ রান করতে পারো, তবে আমার ব্যাগ থেকে একটি ব্যাট তোমাকে উপহার দেব।” এস্টারহুইজেন ঠিক ৭৫ রানেই অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এবং ম্যাচ শেষে মহারাজের ব্যাগ থেকে নিজের পাওনা ব্যাটটি বুঝে নেন।

অভিষেকেই রূপকথা

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অভিষেক হয়েছিল এস্টারহুইজেনের। সেই কঠিন পিচে ৯২ রান তাড়া করতে নেমে তিনি করেছিলেন ৪৮ বলে অপরাজিত ৪৫ রান। টি-টোয়েন্টি মেজাজের ইনিংস না হলেও দলের জয়ের জন্য সেটাই ছিল সেদিন সময়ের দাবি। মাঝে দুটি ম্যাচে রান না পেলেও শেষ দুই ম্যাচে টানা দুই ফিফটি হাঁকিয়ে সিরিজ শেষ করেন তিনি। ৫ ম্যাচে ৫০ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ২০০ রান, যেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ডেভন কনওয়ের সংগ্রহ মাত্র ১০০।

মহারাজ তাঁর প্রিয় শিষ্যের প্রশংসা করে বলেন, “অভিষেক সিরিজেই এমন কঠিন উইকেটে ম্যান অব দ্য সিরিজ হওয়া স্পেশাল কিছু। সে যেভাবে কন্ডিশন বুঝে ব্যাটিং লাইনআপকে নেতৃত্ব দিয়েছে, তা অসাধারণ। আশা করি, সে এভাবেই দক্ষিণ আফ্রিকার সব ফরম্যাটে নিজের জায়গা করে নেবে।”

ডাগআউটের ‘টোটকা’ ও মহারাজের ছত্রছায়া

মহারাজ ও এস্টারহুইজেন দুজনেই এসএ২০ (SA20) লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেন। সেখানে এস্টারহুইজেনের পারফরম্যান্স খুব একটা ভালো ছিল না (১২ ম্যাচে মাত্র ১৬৬ রান)। তবে মহারাজ তাঁর ওপর আস্থা হারাননি।

হাসতে হাসতে মহারাজ এক মজার তথ্য শেয়ার করেন, “প্রথম ম্যাচে ও আমার পাশে বসেছিল, রান পেয়েছে। পরের দুই ম্যাচে পাশে বসেনি, রানও পায়নি। চতুর্থ ম্যাচের আগে আমি ওকে ডেকে বললাম, রান চাইলে আমার পাশেই বসতে হবে। এরপর ওয়েলিংটনে ও ফিফটি পেল। আজ তো দেখি ব্যাগ নিয়ে নেট থেকে আমার পিছু পিছু এসে পাশেই বসে পড়ল!”

তরুণ এই দল নিয়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়কে ‘অত্যন্ত বিশেষ’ বলে অভিহিত করেছেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। চাপের মুখে তরুণদের এই ঘুরে দাঁড়ানো দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য এক উজ্জ্বল বার্তা বলে মনে করেন তিনি।