অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২৬ শুরুর আগের সন্ধ্যায় মেলবোর্নে স্পষ্ট বার্তাই দিলেন নোভাক জোকোভিচ—শিরোপার লড়াইয়ে তিনি এখনো বড় ফ্যাক্টর। জান্নিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজের সাম্প্রতিক আধিপত্য স্বীকার করলেও, নিজের সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তায় পূর্ণ আস্থা রাখছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।
মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্লামের আগে সংবাদ সম্মেলনে জোকোভিচ বলেন, শরীর ও খেলাটা ঠিকঠাক মিললে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই হারানোর বিশ্বাস তার আছে। বয়স ৩৮ হলেও আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই ২৪ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী এই তারকার কণ্ঠে। লক্ষ্য একটাই—টেনিস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ২৫তম মেজর শিরোপা।
২০২৪ সালের শুরু থেকে পুরুষ এককে সব গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন সিনার ও আলকারাজ। তাই অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষকের চোখে এবারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও এই দুই তরুণ তারকাই ফেভারিট।
তবে জোকোভিচ মনে করেন, ফেভারিট হওয়া মানেই অন্যদের সুযোগ নেই—এমন ধারণা তিনি মানেন না। বিশেষ করে মেলবোর্ন পার্কে, যেখানে তার ঝুলিতে আছে রেকর্ড ১০টি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা।
সংবাদ সম্মেলনে জোকোভিচ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের দুই শীর্ষ তারকা যে আলাদা এক স্তরে খেলছে, তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে নিজের অভিজ্ঞতা, মানসিক শক্তি ও বড় ম্যাচের দক্ষতা তাকে এখনো শিরোপার দৌড়ে রাখছে বলে বিশ্বাস তার। গত মৌসুমে বয়সের ভার সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বিশ্বের তৃতীয় সেরা পারফর্মার মনে করেন—যা তার আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।
ফিটনেস প্রসঙ্গেও খোলামেলা ছিলেন জোকোভিচ। স্বীকার করেছেন, পাঁচ সেটের ম্যাচে শেষের দিকে তরুণদের সঙ্গে তাল মেলানো আগের মতো সহজ নয়। তবু ২০২৫ মৌসুমে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং বড় মঞ্চে সিনার-আলকারাজের পথচলায় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পেরেছেন বলেই মনে করেন তিনি। গত চার গ্র্যান্ড স্লামের তিনটিতেই এই দুজনের একজনের কাছে হেরেছেন জোকোভিচ—এ তথ্যও অকপটে তুলে ধরেন।
অবসর নিয়ে চলা গুঞ্জনও স্পষ্ট ভাষায় উড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বের সাবেক নাম্বার ওয়ান। বর্তমান র্যাঙ্কিংয়ে চার নম্বরে থাকা জোকোভিচের মতে, এখনই থামার কোনো কারণ নেই। সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার তাগিদই তাকে কোর্টে টেনে আনছে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২৬-এ জোকোভিচের প্রথম ম্যাচ সোমবার। প্রতিপক্ষ স্পেনের পেদ্রো মার্টিনেজ। টুর্নামেন্টের শুরুতেই এই ম্যাচ দিয়ে নিজের অবস্থানটা আবারও জানান দিতে চান সার্বিয়ান তারকা—তিনি এখনো শেষ হয়ে যাননি।

