পাকিস্তান সুপার লিগের (PSL) চলমান আসর একের পর এক বিতর্কে টালমাটাল। তবে সব ছাড়িয়ে আলোচনায় এখন লাহোর কালান্দার্সের তারকা ব্যাটার ফখর জামানের ‘বল টেম্পারিং’ বা বলের আকৃতি বিকৃতি করার ঘটনাটি। করাচি কিংসের বিপক্ষে লিগের প্রথম সপ্তাহের সেই ম্যাচে ফখরের এমন আচরণে ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠলেও, তার সমর্থনে এক অদ্ভুত দাবি তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডেভিড মালান।
মাশুল গুনলেন ফখর ও লাহোর
করাচি কিংসের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগে লাহোর কালান্দার্সকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ রান জরিমানা করেন আম্পায়াররা। এরপর আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ফখর জামানকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে সাধারণত এমসিসি-র (MCC) ৪১.৩ আইন অনুযায়ী এই ধরনের অপরাধের বিচার করা হয়, যা আইসিসির নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মালানের ‘বিস্ফোরক’ প্রস্তাব
ফখরের এই ঘটনা যখন আলোচনার তুঙ্গে, তখন বিবিসি-র ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’ শো-তে কথা বলতে গিয়ে Dawid Malan বল টেম্পারিং নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। মালান বলেন, “আমি আসলে মনে করি এটি বৈধ (Legalise) করা উচিত। ক্রিকেটারদের বল ঘষার অনুমতি দেওয়া হোক। তবে অবশ্যই বাইরে থেকে কোনো বস্তু আনা যাবে না। রিভার্স সুইং করানোটাও তো একটা বড় শিল্প।”
মালানের যুক্তি হলো, বছরের পর বছর ধরে ক্রিকেটাররা বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের চেষ্টা করে আসছেন। বর্তমানে ক্রিকেট পুরোপুরি ব্যাটারদের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বল ও ব্যাটের মধ্যে ভারসাম্য ফেরাতে বোলারদের এই ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
স্মৃতিতে ফিরল ‘স্যান্ডপেপার গেট’
ফখরের এই ঘটনা ২০১৮ সালের কেপটাউন টেস্টের সেই কুখ্যাত ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কেলেঙ্কারিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই ম্যাচে ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে শিরীষ কাগজ (sandpaper) দিয়ে বল ঘষতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে ১২ মাস এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
বর্তমানে আইসিসির ৪১.৩ ধারা অনুযায়ী বল টেম্পারিং একটি বড় অপরাধ। তবে মালানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এমন প্রস্তাব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কতটা গুরুত্বের সাথে নেবে, তা নিয়েই এখন চলছে নতুন বিতর্ক।

