২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটালেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন যে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্কে কোস্টারিকার বিপক্ষে ইরানের প্রীতি ম্যাচ (যেখানে ইরান ৫-০ গোলে জিতেছে) গ্যালারিতে বসে দেখার পর AFP-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে FIFA প্রধান বলেন, “ইরান বিশ্বকাপে থাকছে। তারা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দল এবং আমি এতে খুবই খুশি। ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা, ঠিক সেখানেই হবে।”
ভেন্যু বদলের গুঞ্জন ও মেক্সিকোর প্রস্তাব
চলতি মাসের শুরুতেই ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফিফার সাথে ‘আলোচনা’ করছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম (Claudia Sheinbaum) জানিয়েছিলেন, ফিফা চাইলে Mexico ইরানের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে প্রস্তুত।
তবে ইনফান্তিনো সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে সাফ জানিয়েছেন, সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য ও ইরানের অবস্থান
ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ইরানকে বিশ্বকাপে ‘স্বাগত’ জানালেও পরক্ষণেই মন্তব্য করেন যে, ‘নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার খাতিরে’ ইরানের এই আসরে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না।
এর জবাবে ইরান পাল্টা দাবি তোলে যে, যুক্তরাষ্ট্রকেই বরং টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দুনিয়ামালি (Ahmad Donyamali) এমন অবস্থায় ইরানি দলের অংশগ্রহণের পরিবেশ নেই বলে মন্তব্য করলেও ফিফা প্রধানের আশ্বাসে এখন নতুন মোড় নিল পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন:
> বয়কটের ঘোষণা দিল ইরান! কী হবে ফিফা বিশ্বকাপের?
> ইরান কি ফিফা বিশ্বকাপে খেলবে? ঘোর অনিশ্চয়তা
গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানের সূচি
১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ইরান খেলবে গ্রুপ ‘জি’-তে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের ম্যাচগুলো হবে:
১৫ জুন: বনাম নিউজিল্যান্ড (লস অ্যাঞ্জেলেস)
২১ জুন: বনাম বেলজিয়াম (লস অ্যাঞ্জেলেস)
২৬ জুন: বনাম মিশর (সিয়াটল)।

