আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্রিকেট অঙ্গন। তবে মাঠের লড়াই নয়, বরং মাঠের বাইরের এক বিবাদ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এক নেতিবাচক খবর সামনে এনেছে জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজ। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ জন ক্রিকেটারের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মূলত আইসিসির বিতর্কিত ‘স্কোয়াড টার্মস’ বা খেলোয়াড়দের জন্য দেওয়া আইনি শর্তাবলী ঘিরেই এই সংকটের সূত্রপাত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা প্রায় একশ ক্রিকেটারের সুরক্ষা ও বাণিজ্যিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—অধিকাংশই তুলনামূলকভাবে নিচের সারির বা সহযোগী সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটার।
আইসিসির শর্ত অনুযায়ী, এসব খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত কনটেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না এবং লাইসেন্সিং চুক্তির ক্ষেত্রেও তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের হাতে।
ডব্লিউসিএ’র কঠোর অবস্থান
ক্রিকেটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন ‘বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ডব্লিউসিএ) এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংস্থাটি ইতোমধ্যে অন্তত ছয়টি সদস্য দেশের কাছে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছে।
ডব্লিউসিএ-র দাবি, আইসিসি কিছু দলের কাছে অনুমোদনহীন ‘স্কোয়াড টার্মস’ পাঠিয়েছে, যা তাদের অনুমোদিত মানদণ্ডের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মতো দলগুলো এই ধরনের বৈষম্যমূলক শর্তের কবলে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইসিসির বর্তমান নীতিমালায় বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নেই। ডব্লিউসিএ মনে করে, দুর্বল ও কম পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটারদের শোষণ করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়দের তথ্য, ছবি ও পরিচয় তাদের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
আইনি চুক্তির ফাঁদে খেলোয়াড়রা
মূলত ‘স্কোয়াড টার্মস’ হলো এমন একটি আইনি চুক্তি, যা আইসিসি ইভেন্টে ক্রিকেটারদের পালন করতে হয়। ডব্লিউসিএ বলছে, আইসিসি ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাদ দিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এর ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্রিকেটাররা আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন। সংগঠনের মতে, এটি সরাসরি পেশাদার ক্রিকেটারদের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ২০ দলের এই জমজমাট আসর। আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ। পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে কলম্বো এবং অন্যথায় আহমেদাবাদে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে মাঠের ডামাডোল শুরুর আগে মাঠের বাইরের এই অস্থিরতা আইসিসির প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

