আইপিএলের সাইড লাইনে কেভিন পিটারসেনের রসিকতা।

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ‘পোস্টার বয়’ থেকে ব্রাত্য—কেভিন পিটারসনের ক্যারিয়ারের এই ট্র্যাজিক রূপান্তর আবারও ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার তুঙ্গে। ২০০৫ অ্যাশেজের নায়ক এবং ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটের সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেছেন, তিনি IPL খেলায় বোর্ড তাঁকে ঈর্ষা করত এবং বোর্ড তাঁর ক্যারিয়ার অকালে থামিয়ে না দিলে আজ তাঁর নামের পাশে ১৫০-১৬০টি টেস্ট এবং ১৩ হাজার রান থাকত। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে ১০৪ টেস্ট খেলে কেন তাঁকে সরে যেতে হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই কিংবদন্তি।

আইপিএল: ক্যারিয়ার গড়েছে, কেড়েও নিয়েছে

পিটারসন সব সময়ই স্বীকার করেছেন যে, আইপিএল তাঁর ব্যাটিংকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০০৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে (RCB) খেলার সময় রাহুল দ্রাবিড়ের সেই বিখ্যাত ইমেইল তাঁকে স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ‘ব্যাটিং দানব’ বানিয়ে তুলেছিল। কিন্তু পিটারসনের এই আইপিএল সংশ্লিষ্টতা মোটেও ভালো চোখে দেখেনি ইসিবি।

পিটারসনের দাবি, আইপিএলের আর্থিক সাফল্য এবং তাঁর সেখানে নিয়মিত অংশগ্রহণ বোর্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরণের ঈর্ষা তৈরি করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর বিদায়ের পথ প্রশস্ত করে।

সেই ৩৫৫ রানের ইনিংস এবং অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ‘না’

২০১৩-১৪ অ্যাশেজের পর দল থেকে বাদ পড়ার পর পিটারসনকে ফেরার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তৎকালীন ইসিবি চেয়ারম্যান কলিন গ্রেভস। সেই শর্ত মেনে আইপিএল ছেড়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন কেপি। হাঁকিয়েছিলেন ৩৫৫ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস।

কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো—যেদিন তিনি এই রান করলেন, সেদিন বিকেলেই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস তাঁকে জানিয়ে দেন, ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর খেলার পথ চিরতরে বন্ধ!

পিটারসন বলেন, “আমি অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমি আমার ক্যারিয়ার হারিয়েছি। এ কারণেই ওই প্রতিষ্ঠানের (ECB) সবাই আমার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল।”

আরও পড়ুন: আইপিএলে এখনো ‘মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া’ স্যালারি পাচ্ছেন ধোনি!

টেলিগ্রাফ এবং নেতিবাচক প্রচারণা

পিটারসন আরও অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করতে এবং তাঁর ইমেজ নষ্ট করতে ইসিবি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে ব্যবহার করেছিল। যদিও তিনি এখন শান্তিতে আছেন বলে দাবি করেছেন, কিন্তু তাঁর গলার সুরে অভিমানটা স্পষ্ট।

তাঁর মতে, ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তখন আইপিএলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে নিজেদের আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে করত, আর পিটারসন ছিলেন সেই সংঘাতের প্রধান বলি।