বিদায়ী ম্যাচে গার্ড অব অনার পেলেন মামুনুল ইসলাম।ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে গার্ড অব অনার পান মামুনুল। ছবি: ফর্টিস এফসি

বাংলাদেশের ফুটবল আকাশ থেকে আজ বিদায় নিল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়ন দিয়ে শুরু হওয়া সেই রাজকীয় যাত্রার অবসান ঘটল ২০২৬-এর এক পড়ন্ত বিকেলে। কিংস অ্যারেনায় রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ম্যাচের ২২ মিনিটে যখন বদলি বোর্ডটি উঠল, তখন গ্যালারি আর মাঠের আবেগ মিলেমিশে একাকার। দেশের অন্যতম সেরা সৃজনশীল মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামকে সতীর্থ ও প্রতিপক্ষরা মিলে দিলেন বিরল এক ‘গার্ড অব অনার’।

সাধারণত দেশের ফুটবলারদের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। জাহিদ হাসান এমিলির মতো তারকারাও যা পাননি, মামুনুলের ক্ষেত্রে সেই আক্ষেপ রাখেনি তাঁর বর্তমান ক্লাব ফর্টিস এফসি।

ম্যাচের ২২ মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় দুই দলের খেলোয়াড়রা দুই সারিতে দাঁড়িয়ে তৈরি করেন অনন্য এক করিডর। ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচেও তাঁর সেই চিরচেনা বাঁ পায়ের জাদুকরি টাচ আর নিখুঁত পাস মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

বাফুফে ও সতীর্থদের সম্মাননা

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে সম্মান জানাতে কার্পণ্য করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্যরা তাঁর হাতে তুলে দেন ফুলের তোড়া ও বিশেষ ক্রেস্ট। এমনকি বর্তমান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে প্রিয় সহকর্মীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ফুটবলকে বিদায় বলছেন বাংলাদেশের হয়ে ৫৯ ম্যাচ খেলা মামুনুল

জয়ে রাঙানো শেষ বিকেল

মামুনুলের বিদায়ী ম্যাচটি ছিল টানটান উত্তেজনার। ফর্টিস ও রহমতগঞ্জের লড়াইয়ে ২২ মিনিটের মধ্যেই গোল হয় ৪টি। শেষ পর্যন্ত ফর্টিস ৩-২ গোলে জয় পাওয়ায় মামুনুলের বিদায়টা হয়েছে আরও রঙিন।

ম্যাচ শেষে তৃপ্ত মামুনুল বলেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার অবসরের সিদ্ধান্ত যেন দলের খেলায় প্রভাব না ফেলে। আমরা ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ছি, এটাই বড় পাওয়া। আমি নিজেকে একজন সুখী ও ভাগ্যবান মানুষ মনে করি।”

দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার

২০০২ সালে চট্টগ্রামের কল্লোল সংঘের হয়ে প্রথম বিভাগ ফুটবল দিয়ে মামুনুলের যাত্রা শুরু। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়ন, আবাহনী, মোহামেডানসহ দেশের প্রায় সব বড় ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ২০২০ সালে বুরুন্ডির বিপক্ষে শেষবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চড়ানো এই ফুটবলার আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুট জোড়া তুলে রাখলেন। বিদায়বেলায় মাঠে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও স্বজনরা।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দলকে সাফ চ্যাম্পিয়ন ও এশিয়ান কাপে খেলতে দেখার স্বপ্ন চোখে নিয়ে মাঠ ছাড়লেন এই ‘কিংবদন্তি’। কিংস অ্যারেনার ঘাস থেকে মামুনুলের বিদায় হলেও তাঁর সেই নিখুঁত পাসগুলো ঠাঁই করে নিল বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের স্বর্ণালি পাতায়।

আরও পড়ুন: ফুটবল থেকে ‘অনেক কিছু’ পেয়ে এবার ‘ঋণ শোধ’ করতে চান মামুনুল