ইনজুরি যেন ইংলিশ গতিদানব মার্ক উডের নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর গত নভেম্বরে অ্যাশেজ দিয়ে ফেরার চেষ্টা করলেও মাত্র ১১ ওভার বল করেই ছিটকে যান তিনি। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন লড়াইটি লড়ছেন। বিবিসির এক অনুষ্ঠানে উড জানিয়েছেন, ক্যারিয়ার বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে এবার তিনি ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করছেন।
২০২৫ সালের মার্চে বাম হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ১৫ মাস পর অ্যাশেজের পার্থ টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন উড। কিন্তু ইনজুরি পিছু ছাড়েনি। বর্তমানে পুনর্বাসনে থাকা এই ডানহাতি পেসার গ্রীষ্মের শেষ দিকে বোলিং শুরু করার আশা করছেন। ক্যারিয়ারে ৩৮ টেস্ট খেলা উড জানেন, এবারের পুনর্বাসন ঠিকঠাক না হলে হয়তো ক্রিকেটকেই বিদায় বলতে হবে তাঁকে।
ধীরে চলো নীতি: ‘এটাই শেষ সুযোগ’
বিবিসিকে উড বলেন, “বাস্তবতা হলো, এবার আমার ঠিকঠাকভাবে ফিরে আসার শেষ সুযোগ। আমি যদি ফেরার জন্য তাড়াহুড়ো করি, তবে সেটা আমার জন্য ভালো হবে না; ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই আমি খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছি। আশা করছি গ্রীষ্মের শেষ দিকে বোলিং শুরু করতে পারব।”
গত এক বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া উডকে মানসিকভাবেও ক্লান্ত করে তুলেছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সাত মাস পরিশ্রম করে মাত্র এক ম্যাচ খেলেই আবার ছিটকে যাওয়াটা অত্যন্ত হতাশার।
ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণে পরিবর্তনের হাওয়া
মার্ক উড যদি শেষ পর্যন্ত টেস্ট ফরম্যাটে ফিরতে না পারেন, তবে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে। জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং ক্রিস ওকসের বিদায়ের পর উডই ছিলেন সেই অভিজ্ঞ পেস চতুষ্টয়ের শেষ প্রতিনিধি। ৪ জুন থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া হোম সিরিজের আগে উডের অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
জফরা আর্চার আইপিএল খেলে ফিরলেও লর্ডস টেস্টে তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় আছে। অন্যদিকে ব্রাইডন কার্সও কব্জির চোটে মাঠের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে জশ টাঙ্গ, গাস অ্যাটকিনসন, ম্যাথু পটস এবং ম্যাথু ফিশারদের ওপরই ভরসা রাখতে হতে পারে ইংলিশ ম্যানেজমেন্টকে।
লক্ষ্য ১৪৬ ক্যাপ ছাড়ানো
চলতি শরতের শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন উড। নিজের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, “আমার চোখ এখন মূল পুরস্কারের দিকে—আর তা হলো আবারও ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামা। ইনজুরির আগে আমি বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিলাম, আবারও সেই পর্যায়ে ফিরে যেতে আমি বদ্ধপরিকর।”

