বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

২০২৬ বিশ্বকাপের লক্ষ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই যাত্রায় মেহেদী হাসান মিরাজ কি অধিনায়ক হিসেবে বহাল থাকবেন? সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের কথায় ফুটে উঠল চরম অনিশ্চয়তা। গত বছর নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে এক বছরের জন্য মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অধিনায়কত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা

আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকবেন কি না, এমন প্রশ্নে মিরাজ সোজাসুজি জানালেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর একার নয়।

তিনি বলেন, “ওটা তো আমার একার সিদ্ধান্ত নয়, ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছে, তাদের সিদ্ধান্ত। তারা এখনও ওই ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করেননি। সিরিজের পরে হয়তো আলোচনা করা হবে।”

তবে লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন, “যাকেই অধিনায়কত্ব দেওয়া হোক, তাকে সময় দিলে দলটা সুন্দরভাবে গড়া যায়।”

পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মুখে

অধিনায়ক মিরাজের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ সাদামাটা। গত বছর ১১ ওয়ানডেতে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৯.১০ এবং স্ট্রাইক রেট ৭১.৮০। বোলিংয়েও ১১ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মাত্র ১১টি। অধিনায়ক না হলে হয়তো দলেই জায়গা পাওয়া কঠিন হতো তাঁর জন্য।

নিজের এই বাজে ফর্ম নিয়ে মিরাজ বলেন, “আমি চিন্তিত নই। সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়তো পারফর্ম হচ্ছে না, গড়পড়তা হচ্ছে। তবে অবশ্যই চেষ্টা করব দলকে ম্যাচ জেতাতে।”

বিশ্বকাপের লক্ষ্যে ‘অগ্নিপরীক্ষা’

কোচ ফিল সিমন্সের মতে, এই সিরিজটি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সিরিজ হারলে মিরাজের অধিনায়কত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। মিরাজ নিজেও তা উপলব্ধি করছেন। তাঁর মতে, অধিনায়ক যেই থাকুক না কেন, লক্ষ্য হওয়া উচিত ২০২৬ বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটি মিরাজের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার এবং বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় মোড় হতে যাচ্ছে। মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে মিরাজের হাতে বিশ্বকাপের ব্যাটন থাকবে কি না।