বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পাইপলাইন মজবুত করতে এবং ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার তৈরির কারিগর হিসেবে আবারও বিসিবিতে ফিরছেন দেশসেরা কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন। এবার তাঁর কাঁধে থাকছে হাই-পারফরম্যান্স (HP) ইউনিটের গুরুভার। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁকে এইচপির প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বিসিবি।
এইচপি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা
জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্তিশালী করতে প্রতি বছরই এইচপি ইউনিটের জন্য আলাদা পরিকল্পনা থাকে বিসিবির। আসন্ন ২০২৬ মরশুমের জন্য সালাহ উদ্দীনের ওপরই ভরসা রাখছে বোর্ড।
জানা গেছে, ডেভিড হেম্পের উত্তরসূরি হিসেবে সালাউদ্দিনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যাবে। চলতি মাসেই বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল এইচপি বিভাগ নিয়ে বিশেষ সভায় বসবেন, যেখানে সালাহ উদ্দীনের নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের এইচপি ইউনিটের বিশেষত্ব হলো, এখানে কোনো নির্দিষ্ট বয়সের মানদণ্ড থাকছে না।
এইচপির ব্যস্ত সূচি
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসে এইচপির ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হবে। এরপর বছরজুড়ে তাদের ঠাসা সূচি রয়েছে।
জুন ২০২৬: জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল বাংলাদেশ সফরে আসবে এইচপি দলের বিপক্ষে খেলতে।
জুলাই ২০২৬: বাংলাদেশ এইচপি দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে। সেখানে তারা তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে।
আগস্ট–সেপ্টেম্বর: অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে এইচপি দল। গত বছরের মতো এবারও তারা সেখানে ‘টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি’ সিরিজের পর দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে।
ইমার্জিং এশিয়া কাপ: এই টুর্নামেন্টেও এইচপি থেকে বাছাইকৃত ক্রিকেটারদের খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সালাহ উদ্দীন বললেন, ‘আমি আছি’, আশরাফুলও থাকছেন
সালাহ উদ্দীনের পদত্যাগ
এর আগে গেল বছরের ৫ নভেম্বর ব্যক্তিগত কারণে সালাহ উদ্দীন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যদিও ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর চুক্তি ছিল, তবে তিনি তখন আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির তৎকালীন চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম তখন জানিয়েছিলেন, আয়ারল্যান্ড সিরিজের পরই সালাহ উদ্দীনের পদত্যাগ কার্যকর হয়।
মূলত ব্যাটারদের অব্যাহত ব্যর্থতায় তীব্র সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সালাহ উদ্দীন।
সালাহ উদ্দীন এর আগেও ২০০৬-২০১০ পর্যন্ত জাতীয় দলের সহকারী ও ফিল্ডিং কোচ এবং পরবর্তীতে একাডেমি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলের নিয়োগের পর কোচিং কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এসেছে।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন নতুন BCB প্রশাসনে সালাহ উদ্দীনের মতো অভিজ্ঞ দেশি কোচকে এইচপির দায়িত্ব দেওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে এইচপি দল যখন অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনে খেলতে যাবে, তখন সালাহ উদ্দীনের টেকনিক্যাল জ্ঞান তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

