মোস্তাফিজুর রহমানমোস্তাফিজকে বাহবা দিচ্ছেন ম্যাচে ফিফটি করা মাহমুদউল্লাহ।

ক্রিকেট মাঠের বাইরে যখন মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে আলোচনা-উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন মাঠে নিজের কাজটাই করে গেলেন এই বাঁহাতি পেসার। বিতর্ক, চাপ কিংবা শিরোনাম—কিছুই ছুঁতে পারেনি তাঁর মনোযোগ। সিলেটে বিপিএলের ম্যাচে শেষ ওভারে ঠান্ডা মাথার দুর্দান্ত বোলিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে এনে দিলেন নাটকীয় জয়।

ঢাকা ক্যাপিটালসের সামনে শেষ ওভারে লক্ষ্য ছিল ১০ রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। কিন্তু মোস্তাফিজের কাটার আর স্লোয়ারে সেই সমীকরণ ভেঙে পড়ে মুহূর্তেই। ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে রংপুরকে ৫ রানের জয় এনে দেন তিনি।

এর আগে সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে এসেছিল চার-ছক্কায় ১০ রান, মোহাম্মদ মিঠুন তখন ৩৬ বলে ফিফটির পথে। মনে হচ্ছিল ম্যাচ ঢাকার দিকেই হেলে পড়ছে। কিন্তু মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে চারটি সিঙ্গেল ছাড়া আর কিছুই আদায় করতে পারেননি ব্যাটাররা।

চার ওভারে ২৩ রান দিয়ে এক উইকেট—পরিসংখ্যানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল সময়টা। চাপের মুহূর্তে এসে ম্যাচ নিজের হাতে নিয়ে নেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার।

তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ৩৮ বলে করেন ৫১ রান। তাঁর ইনিংসেই দাঁড়ানোর জায়গা পায় রংপুর। এই জয়ে চার ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে রংপুর রাইডার্স। সমান পয়েন্ট হলেও নেট রান রেটে এগিয়ে আছে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস। ঢাকার এটি চার ম্যাচে তৃতীয় হার, তারা আছে পাঁচ নম্বরে।

রান তাড়ায় ঢাকা ভালো শুরু পেয়েছিল। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন ৬.২ ওভারে যোগ করেন ৫৪ রান। গুরবাজ ২২ বলে ৩১ করে ফিরলে দ্রুতই ভাঙে ছন্দ। আল মামুনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ১৮ বলে ২০ রান করে আউট হন।

এরপর মিঠুন দায়িত্ব নেন ইনিংস গড়ার। সাইফ হাসানের সঙ্গে ৪৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তিনি, যদিও সাইফের অবদান ছিল মাত্র ১২ রান। পরে শামীম হোসেনকে নিয়ে আরও ২২ রান যোগ করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে পারেননি মিঠুন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর। ৫.২ ওভারে স্কোরবোর্ডে তখন ৩০ রান, তিন উইকেট নেই। জিয়াউর রহমান টানা দুই বলে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়কে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের মুখে দাঁড় করান দলকে। তখনই নামেন মাহমুদউল্লাহ, হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন।

ডেভিড ম্যালানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। শুরুটা ছিল ধীর, প্রথম ১৮ বলে মাত্র ৮ রান। তবে সেট হয়ে যাওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে দেন। শেষ ২৩ বলে তোলেন ৪৩ রান, ছয়টি চার মারেন।

মাহমুদউল্লাহ ফিরলে রংপুরকে দেড়শ পার করান খুশদিল শাহ। পাকিস্তানি অলরাউন্ডার ২১ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যালান করেন ৩৩ বলে ৩৩ রান।

রংপুরের সামনে বিশ্রামের সুযোগ নেই। আগামীকাল রাতেই চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। ঢাকা ক্যাপিটালস খেলবে বুধবার, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে।