ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও তারকা ফুটবলার নেইমার।আনচেলত্তি ও নেইমার। ছবি: গেটি ইমেজেস

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসতেই ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—নেইমার জুনিয়র কি থাকছেন সেলেসাও দলে? একদিকে রোমারিও ও রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের জোরালো দাবি, অন্যদিকে কোচ কার্লো আনচেলত্তির অনড় অবস্থান। বর্তমানে সান্তোসে খেলা এই ফরোয়ার্ডকে ছাড়াই যখন ব্রাজিল দল ফ্রান্সের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন নেইমার ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফুটবল অঙ্গন।

আনচেলত্তির কঠোর অবস্থান

বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেইমারকে বাদ রাখা নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই কোচ বেশ শান্ত থেকেই উত্তর দিয়েছেন।

ইএসপিএন-এর বরাতে তিনি বলেন, “আমি সবকিছু দেখি এবং শুনি। কিন্তু আমার দায়িত্ব হলো সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটা স্বাভাবিক যে সবার নিজস্ব মতামত থাকবে, কারণ ফুটবল কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়… এটি কোনো সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞানও নয়। আমি সবার মতামতকে শ্রদ্ধা করি।” আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত একবারও নেইমারকে স্কোয়াডে ডাকেননি।

মাঠে নামলেন রোমারিও ও রোনালদো

নেইমারকে দলে ফেরাতে রীতিমতো প্রচারণা শুরু করেছেন ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি রোমারিও। ফিটনেস নিয়ে কড়াকড়ি না করে প্রতিভার কদর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় দল সেরা এবং সবচেয়ে প্রতিভাবানদের জায়গা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির এক মাস সময়ই একজন অ্যাথলেটের শারীরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট। ১০০ ভাগ ফিট না থাকলেও নেইমারের মতো একজন তারকা দলে থাকা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক ভালো।”

একই সুরে কথা বলেছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ খ্যাত রোনালদো নাজারিও। তিনি মনে করেন, নেইমার শারীরিকভাবে ফিট থাকলে আনচেলত্তি অবশ্যই তাকে দলে নেবেন। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফাবিনিও-ও নেইমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, “আমার কাছে নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে যেকোনো মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।”

‘কার্নিভাল ফুটবলে’ নেইমারের ভবিষ্যৎ

আনচেলত্তি ব্রাজিলের ফুটবলে ‘কার্নিভাল’ বা উৎসবের আমেজ ফেরাতে চান। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে আক্রমণভাগে চারজন খেলোয়াড় নিয়ে খেলার সাহস। এই ‘জোগো বোনিতো’ বা নান্দনিক ফুটবলের সাথে নেইমারের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আনচেলত্তি স্রেফ নাম বা প্রতিভার চেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতাকে। নেইমার গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে ইনজুরির সাথে লড়াই করছেন, তা কোচের চিন্তার বড় কারণ।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের নেইমার আবার বিতর্কে, আনচেলত্তির মন পাওয়া বহুদূর!

রক্ষণভাগে বিকল্পের খোঁজ ও আসন্ন পরীক্ষা

ফুল-ব্যাক পজিশনে প্রাকৃতিক খেলোয়াড়ের অভাব মেটাতে আনচেলত্তি এডার মিলিটাও বা মার্কুইনহোসদের মতো সেন্টার-ব্যাকদের ব্যবহারের কথা ভাবছেন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে নিচের প্রীতি ম্যাচগুলোই হবে বড় পরীক্ষা:

২৬ মার্চ: ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স (বোস্টন)

৩১ মার্চ: ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া

৩১ মে: ব্রাজিল বনাম পানামা

নেইমার কি পারবেন ফিটনেস প্রমাণ করে আনচেলত্তির পরিকল্পনায় ফিরতে, নাকি রোমারিও-রোনালদোর দাবি অরণ্যে রোদন হয়েই থাকবে? উত্তর মিলবে হয়তো এই তিন ম্যাচ শেষেই।