ক্রিকফুট এক্সপ্লেইনার
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) তার একাদশ আসর থেকে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘প্লেয়ার ড্রাফট’ প্রথা ভেঙে এবার টুর্নামেন্টটি পা রাখছে ‘প্লেয়ার অকশন’ বা নিলামের দুনিয়ায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত নিলাম। তবে নিলামের ভেন্যু এখনো গোপন রাখা হয়েছে।
ক্রিকেটারদের ক্যাটাগরি ও ভিত্তি মূল্য
পিএসএলের এবারের নিলামে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে পাকিস্তানি রুপিতে (PKR)। চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের ভিত্তি মূল্য:
| ক্যাটাগরি | ভিত্তিমূল্য (পাকিস্তানি রুপি) |
| প্লাটিনাম | ৪ কোটি ২০ লাখ |
| ডায়মন্ড | ২ কোটি ২০ লাখ |
| গোল্ড | ১ কোটি ১০ লাখ |
| সিলভার | ৬০ লাখ |
নতুন দল ও স্কোয়াড গঠন প্রক্রিয়া
এবারের পিএসএলে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৬ থেকে বেড়ে ৮টি হচ্ছে। নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে যোগ দিচ্ছে হায়দরাবাদ ও শিয়ালকোট।
রিটেনশন: প্রতিটি দল তাদের বর্তমান স্কোয়াড থেকে সর্বোচ্চ ৪ জন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে। তবে শর্ত হলো, প্লাটিনাম, ডায়মন্ড, গোল্ড এবং সিলভার—এই চার ক্যাটাগরির প্রতিটিতে মাত্র ১ জন করে খেলোয়াড় রিটেইন করা যাবে।
সরাসরি চুক্তি: নিলামের বাইরে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ১ জন বিদেশি খেলোয়াড়কে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ করার সুযোগ পাবে।
স্কোয়াড সাইজ: প্রতিটি দলে ১৬ থেকে ২০ জন ক্রিকেটার থাকবে। যার মধ্যে ৫ থেকে ৭ জন বিদেশি খেলোয়াড় রাখা বাধ্যতামূলক।
তরুণ কোটা: প্রতিটি একাদশে অন্তত একজন ২৩ বছরের কম বয়সী স্থানীয় খেলোয়াড়কে খেলাতে হবে, যিনি আগে কখনো পিএসএল খেলেননি।ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বাজেট
নিলামের জন্য প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রাথমিক বাজেট বা পার্স নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি। তবে কোনো দল যদি সরাসরি একজন বিদেশি খেলোয়াড়কে দলে ভেড়ায়, তবে সেই বাজেট বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত করা যাবে। একবার চুক্তিবদ্ধ হলে খেলোয়াড়দের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তির মেয়াদ হবে দুই বছর।
মুস্তাফিজ ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশি ভক্তদের জন্য বড় খবর হলো, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ইতিমধ্যে পিএসএলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) থেকে বাদ পড়ার পরপরই পিএসএল তাঁকে লুফে নেয়। তবে নিলামের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে ‘ফিজ’ কোন দলের হয়ে মাঠ মাতাবেন।
গত আসরে সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন। তাই এবারের নিলামে বাংলাদেশি তারকাদের দিকেও থাকবে বিশেষ নজর।
কেন এই পরিবর্তন?
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাভকোর মতে, নিলাম পদ্ধতি চালুর ফলে খেলোয়াড়রা আরও বেশি আর্থিক স্বচ্ছতা এবং উন্নত পারিশ্রমিক পাবেন। এটি লিগটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে।
উল্লেখ্য, পিএসএলের ১১তম আসর শুরু হবে আগামী ১৬ মার্চ এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩ মে।

