ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম চেনা মুখ ও সাবেক তারকা উইঙ্গার রাহিম স্টার্লিংকে নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন। মাদকাসক্ত অবস্থায় বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো এবং নিষিদ্ধ ড্রাগ বহনের গুরুতর অভিযোগে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ আজ নিশ্চিত করেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে হ্যাম্পশায়ারের এম৩ (M3) মোটরওয়ের সাউথবাউন্ডের মিনলি ইন্টারচেঞ্জের কাছে স্টার্লিংয়ের বিলাসবহুল ল্যাম্বরগিনি গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের ব্যারিয়ারে সজোরে ধাক্কা মারে।
দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সাবেক এই ম্যান সিটি ও চেলসি তারকাকে আটক করে।
হ্যাম্পশায়ার পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার কিছু আগে আমরা খবর পাই যে এম৩ মোটরওয়েতে একটি ল্যাম্বরগিনি ব্যারিয়ারের সাথে ধাক্কা খেয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্য কোনো গাড়ি জড়িত ছিল না এবং কেউ আহত হননি। গাড়িচালক বার্কশায়ারের এক ৩১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে ড্রাগ নিয়ে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ড্রাইভিং, ‘ক্লাস সি’র মাদক নিজের কাছে রাখা এবং পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বর্তমানে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে।
‘সব হারিয়ে মূল্যহীন মনে হচ্ছিল স্টার্লিংয়ের’
স্টার্লিংয়ের গ্রেফতারের খবরটি ফুটবল মহলে বড় ধাক্কা দিলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিবিসি স্পোর্টসকে জানিয়েছে, স্টার্লিংয়ের শরীরে আসলেই কোনো মাদকের উপস্থিতি ছিল কি না, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে গত কয়েক বছর ধরে মাঠ এবং মাঠের বাইরে এই ফুটবলার যে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তারই বহিঃপ্রকাশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি আরও যোগ করে, “গত দুটি বছর রাহিমের জন্য ছিল নরক যন্ত্রণার মতো। ওকে চারপাশ থেকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয়েছে যেখানে ও নিজেকে পুরোপুরি ‘মূল্যহীন’ এবং ‘সবার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া’ একজন মানুষ মনে করছিল। আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়রা যখন ক্লাবের প্রয়োজনে আর ফিট থাকে না, তখন তাদের সাথে যে অমানবিক আচরণ করা হয়—এটি তারই মানসিক ট্রমার ফল।”
ম্যান সিটির রাজা থেকে ডাচ লিগে ব্রাত্য
২০২২ সালে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মূলত রাহিম স্টার্লিংয়ের ক্যারিয়ারে বড় ধস নামে। ম্যান সিটির হয়ে ৪টি প্রিমিয়ার লিগ জেতা এই উইঙ্গার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চার বছর চুক্তিতে থাকলেও ধারে এক মৌসুম খেলেন আর্সেনালে।
কিন্তু গানার্সদের জার্সিতে ২৮ ম্যাচে মাত্র ১ গোল করে চরম ফ্লপ হন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে চেলসি কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে ৩ লাখ পাউন্ডের বিশাল চুক্তির বাকি ১৮ মাসের হিসেব চুকিয়ে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে স্টার্লিংকে পুরোপুরি মুক্ত করে দেয়।
চেলসি থেকে ছিটকে যাওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ডাচ লিগের ক্লাব ফেইনুর্ডের সাথে চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি সই করেন ইংল্যান্ডের হয়ে ৮২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকা। তবে নেদারল্যান্ডসের লিগেও নিজের চেনা ফর্ম ফিরে পাননি তিনি; ক্লাবের হয়ে মাত্র ৮টি ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে জালের দেখাও পাননি একবারও।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামা এই তারকা ফুটবলারের এমন করুণ পরিণতি ও আইনি জটিলতা ভক্তদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

