আইপিএল ট্রফি হাতে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার ও বিরাট কোহলি।বিরাট কোহলিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাস। ছবি: আরসিবি

দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত মৌসুমে আইপিএলের শিরোপা জিতেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)। আজ শনিবার সেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের (SRH) বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করছে রজত পাতিদারের দল। তবে এবারের লড়াইটি কেবল মাঠের ক্রিকেট নয়, বরং গত বছরের ট্র্যাজেডি কাটিয়ে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় পরীক্ষা।

পাতিদারের নেতৃত্ব ও আরসিবি-র নতুন জমানা

রাহুল দ্রাবিড়, অনিল কুম্বলে কিংবা বিরাট কোহলির মতো মহাতারকারা যা পারেননি, তা করে দেখিয়েছেন তরুণ অধিনায়ক রজত পাতিদার। ২০২৫ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল দলের ভারসাম্য। তবে শিরোপা জয়ের মাত্র ১৮ ঘণ্টার মাথায় স্টেডিয়ামের বাইরে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বেঙ্গালুরু শহরকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই শোক কাটিয়ে আইপিএল ২০২৬-এ আরসিবি নামছে এক নতুন মানসিকতা নিয়ে। দলের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট মো বোবাট স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা কিছু ডিফেন্ড করতে নামছি না, আমরা স্রেফ আবার জিততে চাই।”

কোহলির ‘ক্ষুধা’ ও ফিটনেস

সিএসকে-র ধোনিকে নিয়ে যেমন জল্পনা থাকে, আরসিবি ভক্তদের মনেও কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে একই প্রশ্ন। তবে প্রধান কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের মতে, কোহলি এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে আছেন। তিনি বলেন, “বিরাট এখন অবিশ্বাস্য রকমের ফিট এবং হালকা। নেটে তাঁর ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছে সে রান করার জন্য আগের মতোই ক্ষুধার্ত।” বিশেষ করে ২০২৪ সালের সেই হায়দ্রাবাদ ম্যাচ থেকেই কোহলির ব্যাটিং অ্যাপ্রোচে যে বদল এসেছিল (স্লগ সুইপ এবং উচ্চ স্ট্রাইক রেট), তা এবারও আরসিবি-র বড় হাতিয়ার।

হায়দ্রাবাদ: সেই চেনা প্রতিপক্ষ

মজার ব্যাপার হলো, ২০২৪ সালে হায়দ্রাবাদের বিপক্ষেই ২৮৭ রান হজম করেও ২৬২ রান তুলে নিজেদের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের জানান দিয়েছিল আরসিবি। সেই ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছিল তাদের বদলে যাওয়ার গল্প। আজ আবারও সেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নতুন মৌসুম শুরু করছে তারা। জশ হ্যাজেলউডের গতি আর ফিল সল্টের বিধ্বংসী ওপেনিংয়ের সাথে কোহলি-পাটিদার জুটির দিকে তাকিয়ে থাকবে চিন্নাস্বামী।

নতুন মালিকানা ও আগামীর লক্ষ্য

নতুন মালিকানাধীন আরসিবি এখন অতীতের ‘সুপারস্টার কালচার’ থেকে বেরিয়ে একটি স্থিতিশীল দলে পরিণত হয়েছে। গত ছয় মৌসুমের মধ্যে পাঁচবার প্লে-অফে যাওয়া দলটির মূল লক্ষ্য এখন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি তাই কেবল দুই পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের নতুন ধাপ।