AFCON 2025 Champion Senegal Cricfoot24নাটকীয় ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল। ছবি: এএফপি

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল যে উত্তেজনার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, তা হয়তো আগে কেউ কল্পনাও করেনি। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, মাঠ ছাড়ার হুমকি, দীর্ঘ বিরতি—সব পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়ল সেনেগাল। মরক্কোকে ১–০ গোলে হারিয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট উঠল তাদের মাথায়।

রোববার রাতে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকলেও ম্যাচের নিয়তি নির্ধারিত হয় অতিরিক্ত সময়ে। ৯৪তম মিনিটে ভিয়ারিয়াল মিডফিল্ডার পাপে গায়ের একমাত্র গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো আফকন জয়ের আনন্দে ভাসে সেনেগাল।

ম্যাচের নাটকীয় মোড় নেয় যোগ করা সময়ের শেষদিকে। ৯৮তম মিনিটে মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ সেনেগাল ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের ফাউলে পড়ে গেলে রেফারি জ্যাকস এনদালা পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। এর কিছুক্ষণ আগেই ইসমাইলা সারের একটি গোল বাতিল হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিল সেনেগাল শিবির।

পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায় সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াওয়ের। উত্তেজনার মুহূর্তে তিনি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। একে একে বেশির ভাগ খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও সাদিও মানে মাঠে থেকে সতীর্থদের খেলা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এই ঘটনার জেরে ম্যাচ বন্ধ থাকে প্রায় ১৭ মিনিট। অবশেষে সেনেগালের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরলে খেলা আবার শুরু হয়। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান ব্রাহিম দিয়াজই।

তবে মরক্কোর দুর্ভাগ্য, টুর্নামেন্টে পাঁচ গোল করা দিয়াজ ‘পানেনকা’ স্টাইলে নেওয়া শটটি পাঠান সরাসরি সেনেগাল গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্দির হাতে। সেই সঙ্গে শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা, ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটেই ম্যাচের ফয়সালা। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন পাপে গায়ে। ওই গোলেই ভেঙে পড়ে মরক্কোর স্বপ্ন, আর ২০২১ সালের পর আবারও আফ্রিকার সেরা হয় সেনেগাল।

এটি আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতায় সেনেগালের দ্বিতীয় শিরোপা।

ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই সেনেগালের আচরণকে ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আফ্রিকান ফুটবলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অন্যদিকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও সংবাদ সম্মেলনে হাজির হতে পারেননি। হট্টগোলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়। তবে পরে বিইন স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন।

থিয়াও বলেন, “মুহূর্তের উত্তেজনায় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে বুঝে খেলোয়াড়দের মাঠে ফিরিয়ে এনেছি। রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই উচিত ছিল। আমরা ফুটবলের কাছে ক্ষমা চাইছি।”

মানের কণ্ঠে সংযমের বার্তা

দলের তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানেও মনে করেন, মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়নি।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “পুরো বিশ্ব আমাদের দেখছিল। ফুটবলের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত রাখা জরুরি। পেনাল্টির প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া আফ্রিকান ফুটবলের জন্য ভয়ংকর উদাহরণ হতো। এমন কিছুর চেয়ে হার মানাও আমার কাছে ভালো।”

সব বিতর্ক, সমালোচনা আর নাটক ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত ট্রফিই নির্ধারণ করে দিল বিজয়ীর নাম—সেনেগাল।