দীর্ঘ ১৮ মাস মাঠের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান এখন নিজের ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে। কানপুর টেস্টের পর মিরপুরে বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে তাঁর। বর্তমানে বিসিবির পটপরিবর্তন ও নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপটে সাকিবের ফেরা নিয়ে চলছে নতুন জল্পনা। তবে সাকিবের অভিযোগ, তাঁকে ফেরানোর বিষয়টি কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে তিনি এ বছরের মধ্যে ফিরতে চান। আর অবসরে গিয়ে ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতি করতে চান।
আগের বোর্ড ও বর্তমান পরিস্থিতির আক্ষেপ
ভারতের মুম্বাইয়ে গতকাল স্পোর্টসস্টারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। সাক্ষাৎকারে সাকিব স্পষ্ট বলেন, “আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা—দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনো আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো—সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠিত হলেও সাকিবের ফেরা নিয়ে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
মামলা ও নিরাপত্তা জটিলতা
সাকিবের দেশে ফেরার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই এমপির নামে হত্যা মামলাসহ শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি ও চেক জালিয়াতির একাধিক মামলা রয়েছে। গত অক্টোবরে দুই উপদেষ্টার সবুজ সংকেত পেয়েও মিরপুর টেস্ট খেলতে পারেননি তিনি।
তবে সাকিব আশাবাদী যে এ বছরের শেষের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তিনি বলেন, “একটা বিষয় নিশ্চিত যে আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। তবে এ বছরের শেষের মধ্যেই ফিরে আসতে পারব বলে আশা।”
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারকে কাঠগড়ায় তুললেন সাকিব, তামিমের প্রশংসা
অবসর ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের ক্রিকেট পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কোচিং নাকি ব্যবসা—সাকিব কোন পথে হাঁটবেন?
সাকিবের উত্তর ছিল খানিকটা রহস্যময়, “কোচিং অবশ্যই একটি বিকল্প। তবে অবসর নেওয়ার পর ক্রিকেটের সঙ্গে জড়ানোর ইচ্ছে নেই বললেই চলে। যদি যুক্ত থাকি তবে কোচিং বা ম্যাচ রেফারি হতে পারি। তা না হলে ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিতেও যুক্ত হতে পারি।”

