সিলেটের সামনে এখন নতুন ইতিহাসের হাতছানি। যে ইতিহাস গড়ার পথে বেশ ভালোমতোই চলেছে বিভাগীয় দলটি।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) শেষ রাউন্ডে দ্বিতীয় দিন শেষেই শিরোপার সুবাস পাচ্ছে সিলেট। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তবে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পাবে তারা।
এনসিএলের গেল আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সিলেট।
লিগে ষষ্ঠ রাউন্ড শেষে টেবিলের শীর্ষে থাকা সিলেটের পয়েন্ট ২৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ময়মনসিংহের পয়েন্ট ২৪।
এখন চলছে সপ্তম ও শেষ রাউন্ড। সিলেট খেলছে বরিশালের বিপক্ষে। এ ম্যাচে যদি সিলেট জিতে যায়, তাহলে তো কথাই নয়, সিলেটই চ্যাম্পিয়ন। এমনকি যদি ম্যাচটি ড্র হয়, তাহলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারে সিলেট।
শেষ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিন ছিল আজ। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ৩১২ রানে অলআউট হয় বরিশাল। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ভালোই জবাব দিচ্ছে সিলেট। ৫ উইকেটে ২১৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। ১৩০ রান করে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক জাকির হাসান। সঙ্গে ১৫ রানে অপরাজিত তোফায়েল আহমেদ।
অবিশ্বাস্য কিছু যদি না ঘটে, এই ম্যাচে সিলেটের পরাজিত হওয়ার শঙ্কা শূন্য! স্বাভাবিকভাবেই সিলেট তাই শিরোপার ঘ্রাণ পাচ্ছে।
এদিকে, শিরোপার দৌড়ে সিলেটের মূল যে প্রতিদ্বন্দ্বী ময়মনসিংহ, তাদের জন্য শেষ রাউন্ডে জয় ছাড়া কোনোও বিকল্প নেই। কিন্তু দ্বিতীয় দিন শেষেই হারের শঙ্কায় আছে জাতীয় লিগে নবাগত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ময়মনসিংহ খেলছে রাজশাহীর বিপক্ষে। রাজশাহীকে প্রথম ইনিংসে ২১৯ রানে আটকে রাখে তারা। তবে নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৩৭ রানে! সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে খালিদ হাসানের ব্যাট থেকে। রাজশাহীর সানজামুল ইসলাম ১৮ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ৮২ রানের লিড পায় রাজশাহী। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ৬ উইকেটে ২১০ রানে দিন শেষ করেছে। লিড হয়ে গেছে ২৯২ রানের। ময়মনসিংহ রানের চাপায় পড়তে যাচ্ছে।
জাতীয় লিগে ম্যাচ জিতলে ৮ পয়েন্ট যোগ হয়। ড্র করলে প্রতি দল ২ পয়েন্ট পায়। টাই হলে ৪ পয়েন্ট করে পায় প্রতি দল। এর বাইরেও ইনিংস ব্যবধানে জয়, টানা জয়, ১০ উইকেটে জয়সহ বেশকিছু জটিল হিসাব আছে।
যদি সিলেট তাদের ম্যাচে জিতে যায়, তাহলে কোনো হিসাব ছাড়াই তারা চ্যাম্পিয়ন। যদি সিলেট ম্যাচটি ড্র করে, এবং ময়মনসিংহও যদি শেষপর্যন্ত তাদের ম্যাচটি ড্র করতে পারে, তাহলেও চ্যাম্পিয়ন হবে সিলেট।
যদি সিলেট ড্র করে এবং ময়মনসিংহ জিতে যায়, তখন চ্যাম্পিয়ন হবে ময়মনসিংহ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে ফলোঅনের শঙ্কায় রয়েছে চট্টগ্রাম। ৬ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। আনিসুল ইসলাম (১৮৬ রান) ও মার্শাল আইয়ুবের (১৬৫ রান) পর সেঞ্চুরি তুলে নেন আশিকুর রহমান শিবলিও।
জবাব দিতে নেমে ৯৪ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে চট্টগ্রাম। ফলোঅন এড়াতে তাদের প্রয়োজন আরও ২৯৮ রান।
এদিকে, বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে খুলনা ১৭৫ রানের লিড নিয়েছে। প্রথম ইনিংসে খুলনা ৩০৮ রান করেছিল। জবাবে ১৭৪ রানে অলআউট হয় রংপুর। ৪৪ রান করেন আলাউদ্দিন বাবু। ৭৮ রানে ৫ উইকেট নেন সফর আলী। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে খুলনাও সুবিধা করতে পারেনি। ৪১ রান করতেই ৫ ব্যাটারকে হারিয়েছে তারা।

