ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ছবি।ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: গেটি

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর এক মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়ার ওপর থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় ইনফান্তিনোকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ ও ‘শিশুসুলভ’ (Infantile) বলে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রী মাতভি বিডনি। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের জেরে ২০২২ সাল থেকে ফিফা ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশটিকে ফেরানোর এমন প্রস্তাব যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকে অবজ্ঞা করার শামিল বলে মনে করছে কিয়েভ।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করলে ফিফা ও উয়েফা রুশ জাতীয় দল এবং ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ করে। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো দাবি করেন, “এই নিষেধাজ্ঞা আদতে কিছুই অর্জন করতে পারেনি, বরং এটি কেবল হতাশা ও ঘৃণা তৈরি করেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার ছোট ছেলে-মেয়েদের ইউরোপের অন্যান্য জায়গায় খেলতে দিলে তা সংঘাত কমাতে সাহায্য করবে। ফুটবলে কোনো দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো দেশকে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রীর কড়া জবাব

ইনফান্তিনোর এই মন্তব্যের প্রতিবাদে মাতভি বিডনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। তিনি বলেন, “ইনফান্তিনোর কথাগুলো কেবল দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয়, বরং বাস্তবতাবিবর্জিত। তিনি ফুটবলকে সেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করছেন যেখানে রাশিয়ার হামলায় প্রতিনিয়ত শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে।”

বিডনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার হাতে ৬৫০ জনের বেশি ইউক্রেনীয় অ্যাথলেট ও কোচ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শতাধিক ফুটবলার রয়েছেন।

ইউক্রেনের ক্রীড়ামন্ত্রীর মতে, যুদ্ধ কোনো রাজনীতি নয় বরং এটি একটি অপরাধ। রাশিয়া খেলাধুলাকে তাদের আগ্রাসন বৈধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

বিডনি আরও স্পষ্ট করেন, “যতদিন রাশিয়া ইউক্রেনীয়দের হত্যা করবে এবং খেলাধুলাকে কলুষিত করবে, ততদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা বা প্রতীকের কোনো স্থান নেই।”

নিষেধাজ্ঞার বর্তমান চিত্র

রাশিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেও নিষিদ্ধ রয়েছে। ফিফা ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কাতার বিশ্বকাপ এবং ইউরো ২০২৪-এ অংশ নিতে পারেনি। যদিও তারা কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশের সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে, তবে বৈশ্বিক আসরে তাদের ফেরার পথ এখনো বন্ধ। অন্যদিকে, প্যারালিম্পিক কমিটি রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিলেও মিলন ও কর্টিনা ডি’আম্পেজো শীতকালীন প্যারালিম্পিকসে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো বিতর্ক বজায় রয়েছে।

ইনফান্তিনোর এই রুশপ্রীতি নতুন কিছু নয়; এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে ‘অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ’ পদক গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ফেরার বিষয়ে তার নমনীয় সুর বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।