ফুটবল মাঠে ব্রাজিলের পতাকা।ফুটবল মাঠে ব্রাজিলের পতাকা। ছবি: গেটি ইমেজেস

ফুটবল এবং ব্রাজিল—এই দুটি শব্দ যেন একে অপরের পরিপূরক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ছাড়া যেমন কোনো আসর কল্পনা করা যায় না, তেমনি ডাগআউটে একজন ব্রাজিলিয়ান কোচের উপস্থিতি ছিল দীর্ঘ ৯৬ বছরের এক অটুট ঐতিহ্য। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে ঘটতে যাচ্ছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। ফুটবল মানচিত্রের এই পরাশক্তি এবারও বিশ্বকাপে থাকছে ঠিকই, তবে ডাগআউটে দেখা যাবে না কোনো ব্রাজিলিয়ান কোচকে। পোল্যান্ডের কাছে আলবেনিয়ার হারে নিভে গেল ব্রাজিলের কোচিং ঐতিহ্যের শেষ মশালটিও।

সিলভিনিওর বিদায়ে শেষ আশার প্রদীপ

ব্রাজিলিয়ান কোচদের হয়ে শেষ ভরসা হিসেবে টিকে ছিলেন সিলভিনিও। একসময়ের মাঠ কাঁপানো এই লেফট ব্যাক বার্সেলোনা ও আর্সেনালের মতো ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলবেনিয়ার কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গত রাতে ওয়ারশতে পোল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে-অফ সেমিফাইনালে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আলবেনিয়ার। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, আগামী বিশ্বকাপে ৪৮টি দলের কোনোটির ডাগআউটেই থাকছেন না কোনো ব্রাজিলিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

ও গ্লোবোর পরিসংখ্যানে ঐতিহ্যের অবসান

ব্রাজিলের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ২২টি আসরের প্রতিটিতেই অন্তত একজন করে ব্রাজিলিয়ান কোচ উপস্থিত ছিলেন। কখনো নিজ দেশ ব্রাজিলের ডাগআউটে, আবার কখনো অন্য কোনো দেশের কোচ হিসেবে তাঁরা বিশ্বমঞ্চ মাতিয়েছেন। কিন্তু এবার ইউরোপীয় ও আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফের সব হিসেব-নিকেশ শেষে দেখা যাচ্ছে, চূড়ান্ত হওয়া দলগুলোর একটিতেও কোনো ব্রাজিলিয়ান কোচের জায়গা হয়নি। যদি না শেষ মুহূর্তে কোনো দেশ তাদের কোচ বদলে নতুন করে কোনো ব্রাজিলিয়ানকে নিয়োগ দেয়, তবে এবারের বিশ্বকাপে ৪৪ জন কোচের তালিকায় ব্রাজিলের উপস্থিতি থাকছে শূন্য।

আনচেলত্তি যুগে ঐতিহ্যের ইতি

ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) যদি তাদের দীর্ঘদিনের ধারা বজায় রাখত, তবে হয়তো এমন দিন দেখতে হতো না। ১৯৩০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯৬ বছর ব্রাজিল সবসময় ঘরের কোচের ওপরই আস্থা রেখেছে। কিন্তু হেক্সা (ষষ্ঠ বিশ্বকাপ) জয়ের নেশায় এবার তারা বেছে নিয়েছে ইতালিয়ান কিংবদন্তি কার্লো আনচেলত্তিকে। গত বছরের ২৬ মে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির হাত ধরেই এবার বিশ্বকাপে নামবে সেলেসাওরা। ঘরের কোচ বাদ দিয়ে বিদেশি কোচে ভরসা করা এবং অন্য কোনো দেশেও ব্রাজিলিয়ানদের সুযোগ না পাওয়া—সব মিলিয়েই এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।