ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবল লড়াই

ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ড্র হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গতকাল রাতে। ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপে আছে ৪টি করে দল।

নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশের দর্শকদের সিংহভাগের কাছেই দুটি দেশ কোন গ্রুপে পড়ে, সেটা দেখার আগ্রহই বেশি ছিল। দেশ দুটি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।

পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল পড়েছে গ্রুপ ‘সি’তে। এ গ্রুপে তাদের অপর তিন প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। তুলনামূলক সহজ গ্রুপেই পড়েছে তারা।

অন্যদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’তে পড়েছে। এ গ্রুপে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান রয়েছে। আর্জেন্টিনার জন্য গ্রুপটি সহজ।

গ্রুপিং শেষে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, “আমরা (গ্রুপে) তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিততে পারি। আমাদের ধারণা পরিষ্কার। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা এবং সেজন্য সবচেয়ে শক্তিশালী দলের মোকাবিলা করতে হবে আপনাকে।”

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির বলছেন, “আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেব এবং চেষ্টা করবো গত বিশ্বকাপে যা করেছি সেটাই করার।”

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ফুটবলপ্রেমীরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ দেখতে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায়। কিন্তু এই অপেক্ষা আসলে সহজে ফুরোবার নয়!

আগামী বিশ্বকাপে এ দেশ দুটির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কতোটুকু?

যদি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়, তবে সেমিফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। যদি তারা গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে উঠে, তাও সেমিফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আবার, একটি দল যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যায়, এবং অপর দলটি যদি গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তাহলে ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই।

তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা ৮টি দলের মধ্যে থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উঠলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে মুখোমুখি হতে পারে, তা এখনই বলে দেওয়া কঠিন।

এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল উঠবে শেষ ৩২-এ। সেখানে যোগ দেবে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা ৮টি দল।