ম্যাচটা বাঁচাতে কীইনা করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ! কচ্চপ গতির চেয়েও মন্থর ব্যাটিং—৩২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৯ রান! কিন্তু মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে এমন ব্যাটিং যথেষ্ট ছিল না ক্যারিবীয়দের জন্য। কারণ, প্রথম সেশনেই তাদের সর্বনাশ হয়ে যায়। ১১ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ওই সেশনে ম্যাচ হারের প্রান্তে চয়ে যায় তারা।
এরপর দ্বিতীয় সেশনে ওই অবিশ্বাস্য মন্থর ব্যাটিং। কিন্তু শেষ সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে অলআউট। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে রেকর্ড ৩২৩ রানে। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন জ্যাকব ডাফি। ইনিংসে ৪২ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
এটাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রানের হিসেবে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০১৭ সালে হ্যামিল্টনে ২৪০ রানে জয় পেয়েছিল তারা।
এই ম্যাচ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছে কিউইরা। এ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ টেস্ট সিরিজের সবক’টিই জিতলো নিউজিল্যান্ড। সেই ২০১২ সালে তাদের কাছে শেষবার সিরিজ হেরেছিল কিউই পাখির দেশ।
গতকাল দুই ওপেনার টম ল্যাথাম ও ডেভন কনওয়ের জোড়া সেঞ্চুরির অদ্বিতীয় এক কীর্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ৪৬২ রানের পাহাড় ছুড়ে দেয় নিউজিল্যান্ড। এ রান তাড়া করতে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো করেছিলেন ক্যারিবীয় দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্রেন্ডন কিং। ১৬ ওভারে ৪৩ রান তুলে কাল দিন শেষ করেন তারা। সেই জুটি আজ ভাঙে ৮৭ রানে। জ্যাকব ডাফির লাফিয়ে ওঠা বলে গারিতে গ্লেন ফিলিপসের হাতে ক্যাচ দেন ৯৬ বলে ৬৭ রান করা কিং।
পরের ওভারে ক্যাম্পবেল (১৬) বিদায় নেন অহেতুক শট খেলতে গিয়ে। বাঁহাতি স্পিনার এজাজ প্যাটেলের বলে তিনি মিডঅনে ধরা পড়েন ওই ফিলিপসের হাতেই। প্যাটেল নিজের পরের ওভারে এসে ফিরিয়ে দেন কাভেম হজকেও।
এরপর পেসার ডাফির জোড়া আঘাত। অ্যালিক অ্যাথানেজ ও জাস্টিন গ্রিভসকে তুলে নেন তিনি। বিনা উইকেট ৮৭ থেকে মাত্র পরের ১০ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৮ উইন্ডিজ! আরো ১ রান যোগ করে চা বিরতিতে যায় তারা।
এরপর দ্বিতীয় সেশনে সেই ৩২ ওভারে ৩৯ রান। তবে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেও রক্ষা হয়নি। জ্যাকব ডাফি দারুণ এক ডেলিভারিতে শিকার করেন রোস্টন চেজকে। পরে শেষ সেশনে জেইডেন সিলসকে বোল্ড করে ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি ম্যাচও শেষ করে দেন এই পেসার।
প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট পাওয়া ডাফি ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করলেন। এ নিযে সিরিজে তৃতীয়বার ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন ৩১ বছর বয়সী পেসার। ৩ টেস্টের সিরিজে তার উইকেট সংখ্যা ২৩টি। নিউজিল্যান্ডের হযে ৩ টেস্টের সিরিজে এর চেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড আছে দুটি। একটি কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলির (৩৩), অপরটি ব্রুস টেলরের (২৭)।
তবে ডাফির হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠেনি। সেটি গেছে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার ডেভন কনওয়ের হাতে। কিন্তু সিরিজসেরার পুরস্কারে ডাফিই ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বি!
পুরো ব্যর্থতায় দীর্ঘ সফর শেষ করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্ট সিরিজের আগে তারা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর>>
নিউজিল্যান্ড: ৫৭৫/৮ ডি. ও ৩০৬/২ ডি.।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪২০ ও ৮০.৩ ওভারে ১৩৮ (কিং ৬৭, ক্যাম্পবেল ১৬; ডাফি ৫/৪২, প্যাটেল ৩/২৩)।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৩২৩ রানে জয়ী।
সিরিজ: ৩-ম্যাচ সিরিজে নিউজিল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ডেভন কনওয়ে।
ম্যান অব দ্য সিরিজ: জ্যাকব ডাফি।
