ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা মোহামেডানের বহুল আলোচিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে ওঠেনি। আজ মঙ্গলবার কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়েছে।
ম্যাচজুড়েই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। সুযোগ ছিল দু’দিকেই। প্রথমার্ধে বসুন্ধরা কিংস একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। বিরতির ঠিক আগে বাঁ দিক থেকে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের বাড়ানো বলে রাকিব হোসেন নিখুঁত শটে গোল করেন। তবে বল রিসিভ করার সময় মোহামেডানের শেষ ডিফেন্ডারের সামনে অবস্থান করায় সহকারী রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পতাকা তোলেন।
এই ম্যাচে বসুন্ধরা কিংসের আক্রমণে ছিলেন না ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডরিয়েল্টন। তার অনুপস্থিতি কিংসের ফিনিশিংয়ে স্পষ্টভাবেই প্রভাব ফেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ সাজালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। এতে মোহামেডানের গোলরক্ষক সুজনের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ—কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ ঠেকিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি অবশ্য নষ্ট করেছে মোহামেডানই। নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা ৬ মিনিট ইনজুরি সময়ে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে রহিম উদ্দিন একা বল নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। শট নেওয়ার মতো জায়গায় থাকলেও তিনি বল বাড়ান সতীর্থ স্যামুয়েল বোয়েটাংয়ের দিকে! বোয়েটাং বলের নাগাল না পেলে বিপদমুক্ত হয় কিংস। শেষ মুহূর্তে তপু বর্মণ বল ক্লিয়ার করেন।
এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বি গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা মোহামেডান। সমান ম্যাচ ও সমান পয়েন্ট নিয়ে ফর্টিজ শীর্ষে আছে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। বসুন্ধরা কিংস দুটি ম্যাচে দুটি পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে চতুর্থ স্থানে।
গ্রুপের অন্য দুই দল পুলিশের পয়েন্ট তিন, আরামবাগ এখনো কোনো পয়েন্ট পায়নি। বি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে পরের রাউন্ডে।
প্রায় দুই মাস বিরতির পর এটি ছিল কিংসের ফেডারেশন কাপের প্রথম ম্যাচ।
ঘরোয়া ফুটবলে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা মোহামেডানের মুখোমুখি মানেই বাড়তি উত্তাপ। চলতি মৌসুমের শুরুতেই চ্যালেঞ্জ কাপের ম্যাচ ভেন্যু নিয়ে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লাতেই সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জয় পায় কিংস। পরে লিগ ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন ইস্যুতে মোহামেডান আপত্তি তুললেও মাঠের খেলায় তারা হারে ২–০ ব্যবধানে।
এরপর ১৬ ডিসেম্বর ফেডারেশন কাপে দুই দলের নির্ধারিত ম্যাচ ঘিরেও তৈরি হয় জটিলতা। বিজয় দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় প্রশাসনিক কর্মসূচি থাকায় ম্যাচটি ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে দর্শকশূন্য ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবে মোহামেডান আপত্তি জানালে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পিছিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হলো।

