লিওনেল মেসির নামের পাশে অর্জনের তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে নতুন কোনো স্বীকৃতি যোগ হওয়া মানেই আলাদা করে নজর কাড়ে। বিশ্বকাপ, ব্যালন ডি’অর—সবই আছে। তবু এবার তার ক্যারিয়ারে যুক্ত হতে পারে এমন একটি পুরস্কার, যা এতদিন অধরাই ছিল। প্রথমবারের মতো ‘কিং অব আমেরিকা’ পুরস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়নে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক মেসি।
দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে এই সম্মাননা বেশ পুরোনো ও মর্যাদাপূর্ণ। উরুগুয়ের প্রভাবশালী দৈনিক এল পাইস ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতি বছর দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে খেলা সেরা ফুটবলারকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। ইউরোপে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে এতদিন এই তালিকার বাইরে ছিলেন মেসি। তবে মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর দৃশ্যপট বদলেছে।
গত মৌসুমে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে করেছেন ৩৮ গোল, সঙ্গে ২৫টি অ্যাসিস্ট। তার নেতৃত্বেই এমএলএস কাপ জেতে মায়ামি। একই সময়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে শীর্ষে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। এসব কারণেই এবার ‘কিং অব আমেরিকা’ পুরস্কারের আলোচনায় উঠে এসেছে তার নাম।
এবারের চূড়ান্ত তালিকায় মেসির সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই ফুটবলার। একজন আর্জেন্টিনার রেসিং ক্লাবের ফরোয়ার্ড আদ্রিয়ান ‘মারাভিলা’ মার্তিনেজ। ক্লাবটির হয়ে রেকোপা সুদামেরিকানা জয়ের পাশাপাশি কোপা লিবার্তাদোরেসে সাত গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। মৌসুমজুড়ে ৫৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ২২।
আরেকজন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার জর্জিয়ান দে আরাস্কায়েতা। ফ্লামেঙ্গোর হয়ে কোপা লিবার্তাদোরেস ও ব্রাজিলিয়ান লিগ—দুটো শিরোপাই জিতেছেন তিনি। লিবার্তাদোরেসে টুর্নামেন্ট সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। লিগে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টও আসে তার পা থেকেই। উরুগুয়ের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভালো অবস্থান নিশ্চিত করতেও বড় অবদান ছিল দে আরাস্কায়েতার।
‘কিং অব আমেরিকা’ পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণ করা হয় লাতিন আমেরিকার ২৫০ জনেরও বেশি ক্রীড়া সাংবাদিকের ভোটে। গত বছর এই ভোটে মেসি মাত্র ১৪টি ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে ছিলেন। দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় না থাকাই ছিল তার পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ। ইতিহাসে এই পুরস্কার সবচেয়ে বেশি জিতেছেন আর্জেন্টিনার কার্লোস তেভেজ—তিনবার।
চলতি বছরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর। মেসির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এবার কি নতুন আরেকটি স্বীকৃতি যুক্ত হয়—সেই অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

