sandeep lamichhane

সবুজেঘেরা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে বুধবার সকালের অনুশীলনটা ছিল অন্য রকম। ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ থমকে গেল সময়। দূর থেকে হেঁটে আসছিলেন পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ আমির। আর আগেই মাঠে ছিলেন সন্দীপ লামিছানে। চোখে পড়তেই ভেসে এল পরিচিত ডাক, “লামি… লামি… কেমন আছো?”

ডাক শুনেই ফিরে তাকালেন লামিছানে। মুখে ফুটে উঠল চেনা হাসি। দুজনের মাঝে দূরত্ব মুহূর্তেই ঘুচে গেল। হাত মেলানো, পিঠ চাপড়ানো—সব মিলিয়ে দৃশ্যটা যেন পুরোনো কোনো বন্ধুত্বের ছবি।

দুজন এখন ভিন্ন দলের ক্রিকেটার। মোহাম্মদ আমির বিপিএলে খেলছেন সিলেট টাইটান্সের হয়ে, আর সন্দীপ লামিছানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এই আলাদা জার্সির আড়ালে সম্পর্কগুলো আলাদা থাকে না। বিপিএলও তেমনই এক মিলনমেলা—যেখানে প্রতিযোগিতার ফাঁকে ফিরে আসে স্মৃতি।

লামিছানের জন্য দিনটি ছিল আরও বিশেষ। প্রায় সাত বছর পর আবার বিপিএলের মঞ্চে পা রাখলেন নেপালের এই লেগ স্পিনার। সিলেট তার কাছে নতুন নয়। বরং পরিচিত এক আবেগের নাম।

২০১৮–১৯ মৌসুমে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে বিপিএলে খেলেছিলেন তিনি। তখন বয়স ছিল মাত্র ১৮। ছয় ম্যাচে উইকেট পেয়েছিলেন চারটি, তবে তার বোলিং ইকোনমি ছিল নজরকাড়া—ওভারপ্রতি ৫.৬৬। সেটাই ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটভূমিতে তার প্রথম ছাপ।

এরপর সময় বদলেছে। বদলেছেন লামিছানেও। নেপালের ক্রিকেটের মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন লিগে খেলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গড়েছেন একের পর এক রেকর্ড। রাশিদ খানের আগে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন।

এত কিছুর পর আবার বিপিএলে ফেরা—লামিছানের জন্য এক ধরনের ফিরে আসা। আগেরবার সিলেটে যে হোটেলে ছিলেন, এবারও দলের আবাস সেই একই জায়গায়। হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে স্মৃতির ভিড় যেন চোখেমুখে স্পষ্ট।

হালকা হাসিতে তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এখানকার মানুষ, অনেক ক্রিকেটার—সবই আমার পরিচিত। ব্যাপারটা দারুণ। আবার বিপিএলে খেলতে পেরে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত।”

এই রোমাঞ্চ শুধু তার নিজের নয়, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সেরও। সাম্প্রতিক ফর্মে আছেন লামিছানে। কদিন আগে শেষ হওয়া নেপাল প্রিমিয়ার লিগে ৯ ম্যাচে ওভারপ্রতি পাঁচের কম রান দিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি।

রাজশাহীতে যোগ দেওয়ার গল্পটাও বেশ স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, “নেপাল প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল দেখছিলাম। তখনই কোচ হান্নান সরকার আমাকে বার্তা দেন—আমি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে খেলতে আগ্রহী কি না। খুব অল্প সময়েই সব চূড়ান্ত হয়ে যায়। উনি বিষয়টা খুব সহজ করে দিয়েছেন।”

পড়ুন আরও:

বিশ্বের শীর্ষ ১০ তরুণ ফুটবলার

আগের বিপিএল আর এবারের বিপিএলের মধ্যে পার্থক্যও চোখে পড়েছে তার।

“২০১৯ সালের পর অনেক কিছু বদলেছে। অবকাঠামো উন্নত হয়েছে, আয়োজন আরও গোছানো। তবে ভক্তদের উন্মাদনা আগের মতোই।”

দল হিসেবেও আত্মবিশ্বাসী লামিছানে। তার মতে, অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশ্রণ রাজশাহীকে আলাদা শক্তি দিচ্ছে।

লামিছানে বলছিলেন, “আমাদের দলে টপ অর্ডার থেকে শুরু করে বোলিং আক্রমণ—সব মিলিয়ে ভালো ভারসাম্য আছে। নাজমুল হোসেন দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আছেন। বিদেশিরাও অভিজ্ঞ। আমরা আত্মবিশ্বাসী।”

বাংলাদেশ ও নেপালের ক্রিকেট সংস্কৃতির মিলের কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি। দুই দেশের মানুষই ক্রিকেট ভালোবাসে প্রাণ দিয়ে। সেই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার ইচ্ছেটাও স্পষ্ট লামিছানের কণ্ঠে।

“ক্রিকেটে আমার শুরুর দিন থেকেই সমর্থকেরা আমাকে পাশে রেখেছেন। আমি তাদের ভালোবাসার কাছে কৃতজ্ঞ। আশা করি তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। আমরা ট্রফি জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”