মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ

দেশে ফেরার পথেও পাশাপাশি বসে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ। আন্তর্জাতিক লিগ শেষে দুজনের এই একসঙ্গে ফেরা যেন বিপিএলের আগেই নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উড়োজাহাজে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তাসকিন নিজেই।

ছবিটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, “আইএল টি-টোয়েন্টি শেষে ফিরছি দেশে। শারজাহ ওয়ারিয়র্জকে সত্যিই ধন্যবাদ দারুণ আতিথেয়তার জন্য। এখন অপেক্ষায় আছি বিপিএলের।”

বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততা শেষ করে বাংলাদেশের দুই অভিজ্ঞ পেসার এখন পুরো মনোযোগ দিচ্ছেন দেশের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি আসরের দিকে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফেরার পর শুরু হবে তাদের বিপিএলের প্রস্তুতি।

চলতি বিপিএলে মোস্তাফিজুর রহমান খেলবেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলটি তাকে সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে। অন্যদিকে, তাসকিন আহমেদকে এবারের আসরের জন্য নিশ্চিত করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস।

আইএল টি-টোয়েন্টিতে এটি ছিল মোস্তাফিজুর ও তাসকিন—দুজনেরই প্রথম অংশগ্রহণ। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের জন্য নতুন লিগ মোটেও নতুন অভিজ্ঞতা নয়। এর আগে আইপিএল, পিএসএল, এলপিএল ও ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। চলতি বছর দারুণ ছন্দে থাকা বাঁহাতি এই পেসার আইএল টি-টোয়েন্টিতেও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।

দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন মাত্র ৮.০৮ রান। টুর্নামেন্টজুড়ে এটি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা, আর পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে এটি হবে মোস্তাফিজুরের প্রথম বিপিএল। যদিও ২০১৯-২০ মৌসুমে তিনি খেলেছিলেন রংপুর রেঞ্জার্সের হয়ে। সে আসরে ১২ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে বিপিএলে নিজের এক মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স গড়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, দেশের বাইরে তাসকিন আহমেদের লিগ–অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত। এর আগে তিনি খেলেছিলেন শুধু গত বছরের এলপিএলে, সেটিও মাত্র তিন ম্যাচ। তবে আইএল টি-টোয়েন্টিতে শারজাহ ওয়ারিয়র্জের হয়ে ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ডানহাতি এই পেসার। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন ৮.৭৬।

আইএল টি-টোয়েন্টির আগে তাসকিন অংশ নিয়েছিলেন আবু ধাবি টি-টেন লিগে। নর্দান ওয়ারিয়র্সের হয়ে ৬ ম্যাচ খেললেও সেই টুর্নামেন্টকে স্বীকৃত ক্রিকেট হিসেবে ধরা হয় না।

বিপিএলে তাসকিন আহমেদের অভিজ্ঞতা অবশ্য বেশ সমৃদ্ধ। গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ২৫ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়ার পাশাপাশি এক ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে বিপিএলে ৯০ ম্যাচে তাসকিনের উইকেট সংখ্যা ১২৭। পেসারদের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। স্পিনারদের হিসাব ধরলেও তার ওপরে আছেন কেবল সাকিব আল হাসান। অন্যদিকে, মোস্তাফিজুর রহমান ৮২ ম্যাচে নিয়েছেন ১০৫ উইকেট, যা তাকে বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় চার নম্বরে রেখেছে।

বিদেশের মিশন শেষে এবার দেশের মাটিতে নতুন লড়াই। বিপিএলের শুরুতেই মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশ।