বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবহানীর মধ্যকার ম্যাচ

দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। বরং ম্যাচের শেষ ভাগে বড় বিপদে পড়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়েছে আনিসুর রহমান জিকোর দৃঢ়তায়। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে নাটকীয় এই ম্যাচ ২-২ সমতায় শেষ হয়েছে।

কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের শুরুটা ছিল স্বাগতিকদের জন্য স্বপ্নের মতো। পঞ্চম মিনিটেই রাকিব হোসেনের গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমানুয়েল সানডে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আবাহনীর ডাগআউটে তখন হতাশার ছাপ।

কিন্তু ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন সুলেমান দিয়াবাতে। ১৯ মিনিটে তার নেওয়া পেনাল্টি কিক থেকে আসে আবাহনীর প্রথম গোল। সেই গোলেই বদলে যেতে থাকে ম্যাচের গতিপথ। বিরতির পর ৫১ মিনিটে আবারও জালের দেখা পান দিয়াবাতে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২, ম্যাচে ফিরে আসে উত্তেজনা।

এরপর দুই দলই তৃতীয় গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে ৭০ মিনিটে। কিংসের ডিফেন্ডার এমানুয়েল টনি অফসাইড ভেবে বক্সে হাত দিয়ে বল ধরলে আবাহনী পায় দ্বিতীয় পেনাল্টি। হ্যাটট্রিকের সুযোগ ছিল দিয়াবাতের সামনে। কিন্তু বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো। এই সেভই কার্যত কিংসকে হার থেকে বাঁচিয়ে দেয়।

ম্যাচের শেষ দিকে আবাহনীর আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ে শেখ মোরছালিনের নেওয়া একটি শক্তিশালী শটও দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় রুখে দেন আনিসুর। প্রথম ৫২ মিনিটে চার গোল হওয়া ম্যাচের শেষ আধা ঘণ্টায় আর কোনো গোল না হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

ম্যাচ শেষে আবাহনীর সহকারী কোচ প্রাণতোষ কুমার বলেন, “দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ছেলেরা যেভাবে ফিরে এসেছে, সেটি প্রশংসার যোগ্য। এ মৌসুমে আবাহনীর এটি সেরা ম্যাচ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দিয়াবাতের দ্বিতীয় পেনাল্টি গোল হয়নি।”

রেফারির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ ঝরান তিনি, কিংস সমর্থকদের আচরণে দিয়াবাতের মনোযোগ নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

ড্র হলেও লিগ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে বসুন্ধরা কিংস। আট ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ১৭। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে পাঁচ নম্বরে।