শেষ তিন ওভারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন বারবার হাত বদল করছিল। একদিকে মেহেদি হাসান রানার অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে শেষ ওভারে ছক্কা-চারের সাহসে জয় ছিনিয়ে নেওয়া—সব মিলিয়ে রোমাঞ্চের চূড়ান্ত রূপ দেখাল সিলেট।
জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ২৪ রান। এমন পরিস্থিতিতে ১৮তম ওভারে আগুন ঝরান মেহেদি হাসান রানা। মাত্র ৫ রান দিয়ে তুলে নেন টানা তিন উইকেট—হ্যাটট্রিকসহ মোট তিনটি। পরের ওভারেও চাপে রাখেন হাসান, ১৯তম ওভারে খরচ করেন মাত্র ৬ রান। ফলে শেষ ওভারে সিলেটের সামনে দাঁড়ায় কঠিন সমীকরণ—১৩ রান।
কিন্তু চাপের মুহূর্তেই শান্ত থাকে ব্যাট। এক ছক্কা ও এক চারে শেষ ওভারে সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে সিলেট। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৪৩ রান। শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের প্রথম বলেই আমিরের আউটসুইংয়ে কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাজ সাদাকাত। পরের ওভারেই ডাক খেয়ে সাজঘরে ফেরেন হাবিবুর রহমান সোহান। তিন নম্বরে নামা হায়দার আলিও খাতা খুলতে পারেননি। মাত্র ৯ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নোয়াখালী।
সেই বিপদে হাল ধরেন সৈকত আলি ও সাব্বির হোসেন। ২৯ বলে ২৪ রান করেন সৈকত, সাব্বির যোগ করেন ১৫ বলে ১৫। তবে ইনিংসের ভিত গড়ে ওঠে জাকের আলি ও অঙ্কনের জুটিতে। সপ্তম উইকেটে তাঁদের ৬৬ রানের জুটি ম্যাচে প্রাণ ফেরায়। ২৯ রান করে জাকের ফিরলেও এক প্রান্ত ধরে রাখেন অঙ্কন। ৪৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার শেষ পর্যন্ত ৫১ বলে অপরাজিত ৬১ রান করেন।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। ডাক খেয়ে ফেরেন সাইম আইয়ুব। রনি তালুকদার করেন মাত্র ৭ রান। প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া জাকির হোসেন যোগ করেন ১৩। ৩৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
সেখান থেকে ইনিংস গড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪১ বলে ৬০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন ইমন। মিরাজ ৩৭ বলে করেন ৩৩ রান। তবে তাঁদের বিদায়ের পর দ্রুতই ধস নামে ব্যাটিং অর্ডারে। আফিফ হোসেন ও নাসুম আহমেদ ব্যর্থ হলে আবার ম্যাচে ফেরে নোয়াখালী।
চাপের মুহূর্তে ১৩ বলে ১৬ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে সিলেটকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন ইথান ব্রুকস। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় শেষ হাসি হাসে সিলেটই।

