ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের উল্লাসঅ্যাশেজে এই উল্লাস থাকেনি বেন স্টোকসদের। ছবি: গেটি ইমেজেস

চলমান অ্যাশেজে আবারও দুই দিনের টেস্ট। আর তাতেই বড় আর্থিক ধাক্কা খেল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বক্সিং ডে টেস্ট নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার রাজস্ব হারাচ্ছে দেশটির বোর্ড।

অ্যাশেজ সিরিজের চতুর্থ টেস্টে শনিবার চার উইকেটে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচটি শেষ হয়ে যায় মাত্র দুই দিনে। প্রথম দিনেই পড়ে ২০ উইকেট, দুই দিনে মোট ৩৬ উইকেট—যা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যেমন চাঞ্চল্যকর, তেমনি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে ভয়ংকর।

দর্শক ছিল, ম্যাচ ছিল না

প্রথম দিনের খেলা দেখতে এমসিজিতে হাজির হন ৯৪,১৯৯ জন দর্শক—একদিনে কোনো ক্রিকেট ম্যাচে যা স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ উপস্থিতির রেকর্ড। দ্বিতীয় দিনও গ্যালারি ছিল প্রায় পূর্ণ, ৯২ হাজারের বেশি দর্শক খেলা উপভোগ করেন।

সমস্যা তৈরি হয় তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে। ওই দুই দিনের টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই অর্থ ফেরত দিতে হচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। এখানেই লোকসানের অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়িয়েছে কোটি ডলারে।

পার্থের পর মেলবোর্ন—লোকসানের পুনরাবৃত্তি

এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্ট পার্থে দুই দিনে শেষ হওয়ায় প্রায় ৩০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। তবে এমসিজির দর্শক ধারণক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় মেলবোর্ন টেস্টে ক্ষতির অঙ্কও বেড়েছে কয়েক গুণ।

ছোট টেস্ট ব্যবসার জন্য ভালো নয়

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের সকালে এসইএন রেডিওতে কথা বলতে গিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, “প্রথম দিন ২০ উইকেট পড়ার পর রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। একজন দর্শক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেট দারুণ উপভোগ্য, কিন্তু ব্যবসার দিক থেকে ছোট টেস্ট মোটেও ভালো নয়।”

গ্রিনবার্গের মতে, ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে—মাঠে যেমন, অর্থনীতিতেও তেমন।

উইকেট নিয়েই প্রশ্ন

এমসিজির কিউরেটর ম্যাট পেজ উইকেটে প্রায় ১০ মিলিমিটার ঘাস রেখে দিয়েছিলেন। পেসারদের জন্য ছিল সিম মুভমেন্ট আর ধারালো বাউন্স। ফলে ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকাই হয়ে পড়ে কঠিন। প্রথম দিনের খেলার পরই এই উইকেট নিয়ে সমালোচনায় মুখর হন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটাররা।

সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে পিচ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বোর্ড সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। টেস্ট ক্রিকেট যেন পাঁচ দিন টিকে থাকে—এটাই এখন তাদের বড় চাওয়া।