সাকিব আল হাসান ও তাসকিন আহমেদ

দেশের ক্রিকেটের বাস্তবতা বদলে গেছে অনেকটাই। সাকিব আল হাসান এখন আর জাতীয় দলের বা বোর্ডের নিয়মিত কাঠামোর ভেতরে নেই। রাজনীতির কারণে দেশে ফেরার প্রশ্নও আপাতত অনিশ্চিত। ফলে আন্তর্জাতিক সূচির বাইরে তাঁকে দেখা যাচ্ছে মূলত বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই।

সেই সূত্র ধরেই কদিন আগে আইএল টি–টোয়েন্টিতে সাকিবের সঙ্গে দেখা হয় তাসকিন আহমেদের। দুবাই ও আবুধাবিতে হওয়া ম্যাচগুলো ঘিরে দীর্ঘদিন পর পুরোনো সতীর্থের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান বাংলাদেশের এই পেসার।

বিদেশের লিগ শেষ করে সোমবার বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের ক্যাম্পে যোগ দেন তাসকিন। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সামনে এসে সাকিবের সঙ্গে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি।

তাসকিন বলেন, “সাকিব ভাইয়ের সাথে দুইদিন টি-টেনে আর আইএল এ দুইদিন দেখা হয়েছিল। তো সাকিব ভাইদের টিম আবুধাবিতে ছিল। আমরা তো দুবাইয়ে ছিলাম পরে মাঠের বাইরে আর দেখা হয় নাই। কিন্তু যতটুকু দেখা হয়েছে কথা হয়েছে অনেকদিন পরে ভালো লাগছে।”

ফিটনেস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তাসকিনের উত্তরটা ছিল অনেক বেশি বাস্তবমুখী। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে সাকিবের সবচেয়ে বড় শক্তি শারীরিক সক্ষমতা নয়, অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ বোঝার ক্ষমতা।

“ফিটনেস ওয়াইজ আসলে দেখেন আসলে একটা সার্টেন টাইমে গিয়ে টু বি অনেস্ট সাকিব ভাইয়ের এখন ফিটনেসের থেকেও বড় জিনিস গেম অ্যাওয়ারনেসটা। যেটা অনেক ইম্প্যাক্ট পড়ে যে কোনো টিমের জন্য। অনেক এক্সপেরিয়েন্স। হ্যাঁ ৪০০ এর উপরে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা একজন প্লেয়ার। তো এইটা আসলে যেকোনো টিমের জন্যই পজিটিভ সাইড।”

বাংলাদেশ দলে সাকিবের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তাসকিন মনে করেন, এমন ক্রিকেটারকে যে কোনো দলই চাইবে।

“আমি যদিও বাংলাদেশ টিমে এটা তো আমার কন্ট্রোলে নাই। কিন্তু উনার মতো প্লেয়ারকে সবাই টিমে পেতে চায়।”

এদিকে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচে না খেলায় তাসকিনের অনুপস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেটারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

“এ নিয়ে আপনারা ভুল তথ্য পেয়েছেন হয়তো। আসলে ৪২ দিন পর দেশে ফিরে দেখি আমার ছেলে অসুস্থ। তখন টিম ম্যানেজমেন্টকে জানাই যে এক ম্যাচ পরে যোগ দেবো।”

সব মিলিয়ে, মাঠের ভেতরে না হলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাকিব এখনো সতীর্থদের আলোচনায় আছেন। আর তাসকিনের কথায় স্পষ্ট, অভিজ্ঞতার জায়গায় সাকিব এখনও আলাদা করে দেখার মতো নাম।