মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ

বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এখন আর ব্যতিক্রম নয়। বিশ্ব ক্রিকেটের নানা প্রান্তে নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে তাঁদের। চলমান বিপিএলের মধ্যেই যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশে খেলছেন রিশাদ হোসেন। এর আগে আইএল টি–টোয়েন্টিতে খেলেছেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। সেখানে ছিলেন সাকিব আল হাসানও, যদিও তিনি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের চুক্তিভুক্ত নন।

আইএল টি–টোয়েন্টিতে শারজা ওয়ারিয়র্সের হয়ে তাসকিন খেলেছেন ছয়টি ম্যাচ। পেয়েছেন ৯ উইকেট। টুর্নামেন্ট শেষে কিছুদিন ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বিপিএলে নিজের দল ঢাকা ক্যাপিটালসে যোগ দিতে তিনি এখন সিলেটে। সেখানেই বিদেশি লিগে খেলতে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই পেসার।

আজ সিলেটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাসকিন বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য খুবই শিক্ষণীয়।

“আসলে যখন আলাদা আলাদা দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলি, তখন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। কোচিং স্টাফও ভিন্ন হয়। সবাই নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে। এটা নিজের ক্রিকেটে উন্নতির জন্য অনেক সাহায্য করে,” বলেন তাসকিন।

বোর্ডের নীতিগত পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন তিনি, “এখন বোর্ড এনওসি দিচ্ছে, এটা খুব ভালো দিক। ভবিষ্যতে আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য এটা আরও ভালো সুযোগ তৈরি করবে।”

আইএল টি–টোয়েন্টিতে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও বাস্তবতাও অস্বীকার করছেন না এই ডানহাতি পেসার। তাঁর ভাষায়, লিগটি বোলারদের জন্য সহজ ছিল না।

“ওটা বড় একটা টুর্নামেন্ট। প্রায় সব দলের ব্যাটিং লাইনআপই শক্তিশালী। একটার পর একটা ভালো ব্যাটসম্যান আসতে থাকে। বোলার হিসেবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এই অভিজ্ঞতা সামনে আত্মবিশ্বাস দেবে।”

আইএল টি–টোয়েন্টিতে এবার সবচেয়ে আলোচনায় ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। আট ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে একসময় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা তাঁকেই ঘিরে।

এর প্রতিফলন দেখা গেছে আইপিএল নিলামেও। আসন্ন মৌসুমের জন্য মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স—আইপিএলে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের জন্য যা সর্বোচ্চ মূল্য।

মোস্তাফিজের এই দাম নিয়ে কোনো বিস্ময় নেই তাসকিনের চোখে, “ফিজ বিশ্ব ক্রিকেটে প্রমাণিত একজন বোলার। আমার কাছে এটা একদম স্বাভাবিক।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ও যদি ৯ কোটির জায়গায় ১৮ কোটিও পেত, সেটাও অবাক হওয়ার কিছু হতো না। আইপিএল, আইএল—সব জায়গায় পারফর্ম করেছে। আমি মনে করি, ফিজ আরও বেশি ডিজার্ভ করে।”