নতুন বছরের শুরুতেই বড় সিদ্ধান্তে গেল চেলসি। ধারাবাহিক বাজে পারফরম্যান্সের চাপ সামলাতে না পেরে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন এন্টসো মারেস্কা। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তার যাত্রা থামল প্রথম মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ৪৫ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচের বিদায়ের কথা নিশ্চিত করে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।
বিবৃতিতে চেলসি জানায়, “চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতা অর্জনসহ চারটি প্রতিযোগিতায়ই মূল লক্ষ্য নিয়ে খেলছে দল। এন্টসো ও ক্লাব বিশ্বাস করে যে, পরিবর্তনের ফলে দলটি আবার নিজেদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার সেরা সুযোগ পাবে।”
মারেস্কার অধীনে লিগে শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একবার জিততে পেরেছিল চেলসি। নভেম্বরে যেখানে তারা ছিল লিগ টেবিলের তিন নম্বরে, সেখানে বর্তমানে ১৯ ম্যাচ শেষে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেছে পাঁচে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫ পয়েন্টে।
২০২৪ সালের জুনে পাঁচ বছরের চুক্তিতে চেলসির কোচ হন মারেস্কা। তার প্রথম মৌসুমেই দল লিগ শেষ করেছিল তিন নম্বরে এবং নিশ্চিত করেছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকিট। একই মৌসুমে চেলসিকে ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপাও এনে দেন তিনি।
তবে চলতি মৌসুমে সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যায়নি। মাঠের পারফরম্যান্সের অবনতি যেমন চোখে পড়েছে, তেমনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোচের সম্পর্কেও টানাপোড়েনের খবর প্রকাশ পেতে থাকে ইংলিশ গণমাধ্যমে।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এভারটনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ের পর মারেস্কার মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আগের ৪৮ ঘণ্টা ছিল এই ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর আমার সবচেয়ে বাজে ৪৮ ঘণ্টা।”
কারা তাকে বা দলকে সমর্থন করেনি—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও তার এই মন্তব্য চেলসির ভেতরের অস্থিরতাকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। এরপর ক্লাবের পক্ষ থেকে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
এভারটনকে হারানোর পর লিগে টানা তিন ম্যাচ জিততে পারেনি চেলসি। সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত মারেস্কা অধ্যায়ের ইতি টানল ক্লাবটি।
আগামী রোববার লিগের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে চেলসি। ওই ম্যাচে কে দলের দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

