Bangladesh Football Team

২০২৬ সাল মানেই বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আয়োজন—ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এই টুর্নামেন্টের ব্যাপক উন্মাদনায় সাধারণত অন্য সব খেলার আলো কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। তবে বিশ্বকাপের বছরে বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গন মোটেও থেমে থাকছে না। বিশেষ করে ফুটবলে অপেক্ষা করছে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এক বছর।

বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে থাকবে গতি। নারী ও পুরুষ জাতীয় দল একসঙ্গে সাফ ফুটসালে অংশ নিতে থাইল্যান্ডে যাবে। বছরের প্রথম দিনেই দুই দলের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দীর্ঘ সাত বছর পর নারী দল আবার ফুটসাল খেলতে নামছে, যা নিজেই একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

নারী ফুটবলের জন্য ২০২৬ সাল হতে পারে ইতিহাস গড়ার বছর। ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হবে নারী এশিয়া কাপ। এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। সেখানে পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকেও অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুলে যাবে।

সিনিয়র দলের এশিয়া কাপ শেষ হতেই এপ্রিল মাসে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী টুর্নামেন্টের মূল পর্ব। এই প্রতিযোগিতায়ও প্রথমবার খেলবে বাংলাদেশ। শীর্ষ চার নিশ্চিত করতে পারলে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও চোখ থাকবে সবার। টানা দুইবার শিরোপা জেতা বাংলাদেশ ২০২৬ সালের আসরের স্বাগতিক হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্ট জিততে পারলে নারী সাফে হ্যাটট্রিক শিরোপার ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

এ বছর নারী দলের আরেকটি বড় মঞ্চ এশিয়ান গেমস। যেখানে নারী ফুটবলে সিনিয়র দল অংশ নেয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঋতুপর্ণা-আফিদাদের জন্য এই আসরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ুন আরও:
শাহিন শাহ আফ্রিদিকে দ্রুত দেশে ফিরতে পিসিবির নির্দেশ

পুরুষ ফুটবলে তুলনামূলকভাবে সূচি কিছুটা হালকা। ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে এশিয়া কাপ নিশ্চিত করা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় পেলে বাংলাদেশের মিশনটি অন্তত তৃপ্তির সমাপ্তি পাবে। ওই ম্যাচের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও করছে বাফুফে।

এশিয়ান কাপ বাছাই শেষে পুরুষ দলের নির্দিষ্ট সূচি খুব বেশি নেই। জুন উইন্ডো থাকলেও বিশ্বকাপের কারণে অনেক দেশই তখন ম্যাচ খেলতে আগ্রহী নয়। তবে ২০২৬ সালে পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে। বিশ্বকাপের কারণে সাফের সূচি জুন থেকে পিছিয়ে গেছে।

এবারের এশিয়ান গেমসে ফুটবলে মাত্র ১৬টি দল অংশ নেওয়ায় বাংলাদেশ জায়গা পায়নি। ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম এশিয়ান গেমসের ফুটবলে দেখা যাবে না বাংলাদেশকে। অথচ এই টুর্নামেন্টই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ ছিল।

ফুটবলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রীড়াঙ্গনেও ব্যস্ততা কম নয়। এক যুগ পর আবার কোটি টাকার সুপার কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বছরের শুরুতেই। বয়সভিত্তিক দলগুলোর জন্যও সাফ ও এএফসির একাধিক আসর সূচিতে রয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের পাশাপাশি ২০২৬ সালে রয়েছে একাধিক মাল্টি-স্পোর্টস ইভেন্ট। জুন-জুলাইয়ে তিন দেশে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। এর পরপরই ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বসবে কমনওয়েলথ গেমস। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়া শহরে শুরু হবে এশিয়ান গেমস।

মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই দুই গেমস বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কমনওয়েলথ গেমসে শুটিং ও আর্চারি না থাকায় পদকের সম্ভাবনা সীমিত। তবে ভারোত্তোলন, বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারে অংশ নেবে বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমস বরাবরই বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কাবাডিতে একসময় নিয়মিত পদক এলেও ২০১৪ সালের পর তা বন্ধ। সম্প্রতি নারী দল বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ জেতায় কাবাডিতে আবার পদক ফেরানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালে সেনেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত হবে ইয়ুথ অলিম্পিক। ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত এই আসরে বাংলাদেশ অংশ নেবে। একই বছর এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান বিচ গেমস, যেখানে কয়েকটি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য পরীক্ষারও বছর, সম্ভাবনারও। বিশ্বকাপের আলোছায়ার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার সুযোগ পাবে লাল-সবুজ।