Robert Lewandoski and Dani Olmo Barcelonaবার্সেলোনার দুই গোলদাতা রবার্ট লেভানডোভস্কি (বাঁয়ে) ও দানি ওলমো (মাঝে)। ছবি: রয়টার্স

মাঠে বলের দখল ছিল বার্সেলোনারই। কিন্তু ম্যাচ যত গড়াচ্ছিল, গোলের দেখা না পাওয়ায় শঙ্কাও বাড়ছিল। মনে হচ্ছিল, জয়ের ধারা বুঝি থেমেই যাবে। তবে শেষ মুহূর্তে ঝড় তুলল হান্সি ফ্লিকের দল। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে কাতালান ডার্বি নিজেদের করে নিল বার্সেলোনা।

শনিবার রাতে এস্পানিওলের আরসিডিই স্টেডিয়ামে ২–০ গোলের জয় পায় শিরোপাধারীরা। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল তারা।

ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয় শেষ দিকের পরিবর্তনগুলো। নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটে বদলি নেমে গোল করেন দানি ওলমো ও রবার্ট লেভানডোভস্কি।

গোলদাতারা আলো কাড়লেও এই জয়ের নেপথ্যে বড় নাম গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। এস্পানিওল ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে এটাই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। দর্শকদের দুয়ো উপেক্ষা করে পুরো ম্যাচেই ছিলেন অনবদ্য। একের পর এক সেভে দলকে বাঁচান তিনি। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও ওঠে তাঁর হাতেই।

নতুন বছরের শুরুটা দারুণ যাচ্ছে বার্সেলোনার। লা লিগায় টানা নবম জয়ে তারা এগিয়ে গেছে সাত পয়েন্টে।

১৯ ম্যাচে ১৬ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৪৯ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ।

পরিসংখ্যানে স্পষ্ট ছিল বার্সেলোনার আধিপত্য। প্রায় ৬৯ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে তারা নেয় ১৫টি শট, যার ৬টি ছিল লক্ষ্যে। এস্পানিওল নেয় ১৪টি শট, লক্ষ্যে ছিল ৭টি।

ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ আসে ২০তম মিনিটে। থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন এস্পানিওলের রবার্তো ফের্নান্দেস। ওয়ান–অন–ওয়ানে তার শট ঠেকান গার্সিয়া। কিছুক্ষণ পর লামিনে ইয়ামালের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আরও চাপ বাড়ায় স্বাগতিকরা। কার্লোস রোমেরোর ক্রসে পেরে মিয়ার হেড দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় এক হাতে কর্নারে পাঠান গার্সিয়া। বিরতির আগে বার্সেলোনা তিনটি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পারে মাত্র একটি।

দ্বিতীয়ার্ধেও এস্পানিওল সুযোগ তৈরি করেছে। ৬৪তম মিনিটে ফের্নান্দেসকে আবারও রুখে দেন গার্সিয়া। এরপরই বড় পরিবর্তনে যান ফ্লিক। একসঙ্গে মাঠে নামান লেভানদোভস্কি, পেদ্রি ও ওলমোকে।

এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বার্সেলোনা। ৭১তম মিনিটে এরিক গার্সিয়ার শট ঠেকান এস্পানিওল গোলরক্ষক। মিনিটখানেক পর পেদ্রির সুযোগও নষ্ট হয়।

অবশেষে ৮৬তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে। ফের্মিন লোপেসের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে জাল কাঁপান দানি ওলমো।

যোগ করা সময়ে লেভানডোভস্কি নিশ্চিত করেন জয়। ফের্মিনের কাট–ব্যাক থেকে ছয় গজ বক্সের বাইরে পায়ের টোকায় বল পাঠান জালে। লা লিগায় এ মৌসুমে এটি তাঁর নবম গোল, দীর্ঘ বিরতির পর পাওয়া স্বস্তির মুহূর্তও।

এই মৌসুমে লিগে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে বার্সেলোনা করেছে ১২ গোল—এই সময়ে অন্য কোনো দল এত গোল করেনি।

অন্যদিকে, টানা ভালো পারফরম্যান্সের পর হোঁচট খেয়েছে এস্পানিওল। ১৮ ম্যাচে পঞ্চম হারে তারা আছে পয়েন্ট তালিকার পাঁচ নম্বরে।