শফিউল ইসলাম বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার

দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। ইনজুরি আর বয়স—দুটোই ধীরে ধীরে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। তবু ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেই যাচ্ছিলেন শফিউল ইসলাম। শেষ পর্যন্ত সব বিবেচনায় নিয়েই ক্রিকেটকে বিদায় বললেন এই ডানহাতি পেসার।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন শফিউল। জাতীয় দলের হয়ে আর না ফিরলেও, ঘরোয়া লিগে তার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। তবে এবার নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে শফিউল লেখেন-
‘আসসালামু আলাইকুম। আজ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিতে যাচ্ছি। আমি শফিউল ইসলাম, আজ থেকে সকল ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়ানো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় ছিল।’

খেলা ছাড়লেও ভবিষ্যতে ক্রিকেটের সঙ্গে অন্য কোনোভাবে যুক্ত থাকবেন কি না—সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন শফিউল। তবে সুযোগ এলে ক্রিকেটের সঙ্গ ছাড়বেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন এই পেসার।

২০০৭ সালের মার্চে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু শফিউলের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন সংস্করণেই। শেষবার জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে।

বাংলাদেশের হয়ে সব মিলিয়ে ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন শফিউল ইসলাম। তার ঝুলিতে আছে ১০৭টি উইকেট। নির্ভরযোগ্য লাইন-লেন্থ আর লড়াকু মানসিকতার জন্য দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।

শফিউলের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ২০১১ সালের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে নবম উইকেটে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে বাংলাদেশকে এনে দেন ঐতিহাসিক জয়। সেই ম্যাচে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

একই বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ রান খরচায় চার উইকেট নেন শফিউল। সেটিই ছিল তখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার।

নীরবে শুরু, পরিশ্রমে টিকে থাকা আর দায়িত্বশীলতায় শেষ—শফিউল ইসলামের ক্রিকেটযাত্রা ঠিক এমনই। মাঠ ছাড়লেও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে তার নাম থেকে যাবে সম্মানের সঙ্গেই।