Barcelona Won Super Cup Cricfoot24এবারও সুপার কাপ জিতলো বার্সেলোনা। ছবি: রয়টার্স

কিছু গল্প শুরু হয় নিস্তরঙ্গভাবে। প্রথম দিকে বোঝাই যায় না, সামনে কী অপেক্ষা করছে। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালও ঠিক তেমনই—প্রথম আধাঘণ্টা দেখে কেউ ভাবতেই পারেননি, এই ম্যাচ শেষে আলোচনার ঝড় উঠবে।

জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে মৌসুমের প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। প্রত্যাশা ছিল আক্রমণাত্মক রিয়ালের। কিন্তু শুরুটা হলো উল্টো পথে। বলের দখল কম, রক্ষণে অতিরিক্ত সতর্কতা আর প্রতি-আক্রমণের ওপর নির্ভরতা—রিয়াল যেন নিজেকেই চিনতে পারছিল না।

এই কৌশল রবার্ট লেভানডফস্কি, রাফিনিয়া আর লামিনে ইয়ামালের মতো আক্রমণভাগের সামনে কতক্ষণ টিকে থাকবে, সেটাই ছিল প্রশ্ন। উত্তর মিলল দ্রুতই। ৩৫ মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার জাল ভাঙে। তার আগে একবার সুযোগ নষ্ট করলেও পরের আক্রমণেই রাফিনিয়া ভুল করেননি। গোলটা ছিল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

তবে আসল নাটক তখনও বাকি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে বিরল এক দৃশ্যের জন্ম হয়—মাত্র তিন মিনিটে তিন গোল! ম্যাচের গতি, উত্তেজনা আর বিশ্বাস—সবকিছু যেন একসঙ্গে উল্টে যায়। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২, কিন্তু মানসিকভাবে ম্যাচ তখন পুরোপুরি আগুনে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও ছিল বজ্রপাতের মতো। ৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়া, ৪৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর ৪৯ মিনিটে লেভানডফস্কি—টানা তিন মিনিটে তিনটি গোল ম্যাচটাকে নিয়ে যায় ভিন্ন মাত্রায়। তখন বোঝাই যাচ্ছিল, এই ফাইনাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউই নিশ্চিন্ত হতে পারবে না।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন সেই রাফিনিয়া—যিনি গোলের খাতা খুলেছিলেন। ৭৩ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া তাঁর শট রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে দিক পাল্টায়। থিবো কোর্তোয়া ভুল পায়ে ধরা পড়েন, বল জালে। ৩-২—এটাই শেষ পর্যন্ত শিরোপার ব্যবধান।

এই জয়ে মৌসুমের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলে বার্সেলোনা। একই সঙ্গে ফাইনালে কোচ হান্সি ফ্লিকের নিখুঁত রেকর্ড আরও শক্ত হলো। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ১৫তম ফাইনাল—এখনো পর্যন্ত একটিও হারেননি। এই জয় কি প্রতিশোধের স্বাদও এনে দিল? কারণ, গত অক্টোবরে লা লিগায় রিয়ালের মাঠেই হেরেছিল বার্সা।

শেষদিকে উত্তেজনা কমেনি। যোগ করা সময়ে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং লাল কার্ড দেখলেও বার্সার নিয়ন্ত্রণ ভাঙেনি। বদলি হিসেবে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়ালের আক্রমণে গতি আনলেও ফল বদলাতে পারেননি। বরং শেষ মুহূর্তে দুটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করে হতাশায় ডুবে যায় মাদ্রিদ শিবির।

এই ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোল আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। দীর্ঘ ১৮ ম্যাচের গোলখরা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্কোর করেন তিনি। গতি, দক্ষতা আর ঠান্ডা মাথার সমন্বয়ে গোলটি ছিল শিল্পকর্মের মতো। কিন্তু সেটার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র দুই মিনিট—কারণ এরপরই লেভানডফস্কির নিখুঁত ফিনিশিং আবার ম্যাচে ভারসাম্য ফেরায়।

পরিসংখ্যানেও ম্যাচের সমতা স্পষ্ট। রিয়ালের ১২ শটের ১০টিই লক্ষ্যে, বার্সার ১৬ শটের ৭টি পোস্টে। তবে সংখ্যার বাইরে গিয়ে আলোচনায় থাকবে রিয়ালের কোচ জাবি আলোনসোর কৌশল—এমন ম্যাচে এতটা রক্ষণাত্মক শুরু কি প্রয়োজন ছিল?

এই জয়ে বার্সেলোনা স্প্যানিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা জয়ের ধারা আরও লম্বা করল। লা লিগায়ও তারা শীর্ষে, রিয়ালের চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুপার কাপজয়ী দলই শেষ পর্যন্ত লিগ জিতেছে—এই ধারা যদি বজায় থাকে, তবে বার্সার এই ট্রফি কি বড় কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে?