Mohammad Salah and Sadio Mane

আফ্রিকান নেশন্স কাপের প্রথম সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনার আলাদা মাত্রা। তার ওপর যদি মুখোমুখি হয় সেনেগাল ও মিশর, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঠিক কোথায় যাবে—তা বলাই বাহুল্য। তাঞ্জিয়ারের মাটিতে এই ম্যাচে আবারও সামনে আসছে সাদিও মানে ও মোহামেদ সালাহর বহুদিনের দ্বন্দ্ব।

এক সময় ক্লাব ফুটবলে একই জার্সিতে খেলেছেন, সাফল্য ভাগাভাগি করেছেন। কিন্তু জাতীয় দলের লড়াইয়ে এই দুই তারকার গল্প বরাবরই ভিন্ন।

পুরোনো হিসাব মেটানোর মঞ্চ

সালাহর জন্য এবারের টুর্নামেন্ট শুধুই আরেকটি আসর নয়। ২০১৭ ও ২০২২—দুই ফাইনালেই শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছে মিশর। বিশেষ করে ২০২২ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে সেনেগালের কাছে হারের ক্ষত এখনো তাজা। সেই ম্যাচে জয়সূচক পেনাল্টি করেছিলেন মানে, আর সালাহ অপেক্ষায় থেকেও শট নেওয়ার সুযোগ পাননি।

এর দুই মাস পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও একই প্রতিপক্ষের কাছে হেরে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট হারায় মিশর। ফলে এই সেমিফাইনাল সালাহর কাছে আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং বহুদিনের জমে থাকা হতাশা ঝেড়ে ফেলার সুযোগ।

বয়স বাড়লেও নামের ওজন একই

দুজনেরই বয়স ৩৩ ছুঁইছুঁই। তরুণদের মতো দৌড়ঝাঁপ হয়তো নেই, কিন্তু বড় ম্যাচে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় এখনো তারা আলাদা। এবারের আসরে সালাহ ৪ ম্যাচে ৪ গোল করে মিশরের আক্রমণের প্রধান ভরসা। অন্যদিকে মানে গোলের সংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও বড় মুহূর্তে প্রভাব রাখার দক্ষতা এখনো অটুট।

ক্যারিয়ারের পথচলাতেও রয়েছে অদ্ভুত মিল। দুজনই কিশোর বয়সে বাড়ি ছেড়ে শহরে গেছেন ফুটবলের স্বপ্ন নিয়ে। দুজনই নিজেদের দেশেই সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছেন।

লিভারপুলের স্মৃতি, জাতীয় দলের বাস্তবতা

ইয়ুর্গেন ক্লপের অধীনে লিভারপুলে পাঁচ বছর একসঙ্গে খেলেছেন মানে ও সালাহ। ফিরমিনোকে সঙ্গে নিয়ে গড়েছিলেন ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ। চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ—সব জিতেছেন একসঙ্গে।

তবে জাতীয় দলের জার্সিতে এই বন্ধুত্বের জায়গা নেই। এখানে তারা দুই ভিন্ন দেশের আশা-ভরসা। সেনেগাল চাইবে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরেক ধাপ এগোতে, আর মিশর খুঁজবে বহুদিনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের রাস্তা।

সেমিফাইনালের এই লড়াইয়ে কে হাসবে শেষ পর্যন্ত, তা বলবে ৯০ মিনিটের ফুটবল। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—সেনেগাল বনাম মিশর মানেই মানে বনাম সালাহ, এই গল্প এড়ানোর সুযোগ নেই।