ইন্টার মিলানের মাঠ সান সিরোতে ম্যাচ শেষে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের চোখে জল—উচ্ছ্বাসের, স্বস্তির আর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের। চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টারকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্সেনাল। সেই জয়ের নায়ক জেসুস, জোড়া গোল করে ফিরে পেলেন নিজের পুরোনো ছন্দ।
চোট কাটিয়ে ফেরার পর মাত্র তৃতীয়বার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ ১১ মাস হাঁটুর গুরুতর চোটে মাঠের বাইরে থাকার পর এমন একটি মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স—স্বাভাবিকভাবেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে জেসুস বলেন, “এটা আমার জন্য স্বপ্নের মতো একটা রাত। ছোটবেলায় টিভিতে সিরি আ দেখতাম, এই স্টেডিয়ামে খেলার কল্পনা করতাম। এখানে গোল করতে পারাটা—চোখে জল চলে এসেছে।”
চার মৌসুম আগে আর্সেনালে যোগ দিলেও ধারাবাহিক চোটের কারণে নিজের সময়টাকে তিনি দেখছেন ভিন্নভাবে। জেসুসের ভাষায়, “মনে হয় এখানে দেড় বা দুই মৌসুমই খেলতে পেরেছি।”
ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। বল ছাড়াই নড়াচড়া, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনে চাপ—সব মিলিয়ে পুরোনো জেসুসের ছায়া স্পষ্ট। এই জোড়া গোলের মধ্য দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ১০ ম্যাচের গোলখরা কাটল; সর্বশেষ এই প্রতিযোগিতায় তিনি গোল পেয়েছিলেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা সাত ম্যাচ জিতে ক্লাব রেকর্ড গড়েছে আর্সেনাল। জেসুস মনে করেন, ইন্টারের মতো দলের বিপক্ষে এমন জয় আলাদা গুরুত্ব রাখে।
“ওরা বড় দল। আমরা এখানে গত মৌসুমে হেরেছিলাম। আজ আমরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।”
আর্সেনালের আক্রমণভাগে জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতাও এখন তুঙ্গে। ভিক্টর গিয়োকারেস এই ম্যাচেই দারুণ এক কার্লিং শটে গোল করেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম নিয়ে আলোচনা চলছিল।
এ প্রসঙ্গে জেসুস বলেন, “সবাই খেলতে চায়। আমি এটা বুঝি। ভিক গোল করেছে—আমি খুব খুশি। কাই হাভার্টজও সুযোগ পেলে গোল করবে।”
দীর্ঘ চোটের সময়টা তাকে বদলে দিয়েছে বলেও জানান জেসুস।
“ভালো আর খারাপ—সব কিছুরই কারণ থাকে। ওই সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।”
সান সিরোর আলো নিভে গেলেও এই রাত জেসুসের স্মৃতিতে রয়ে যাবে বহুদিন। আর্সেনালের জন্যও বার্তাটা স্পষ্ট—পুরোনো অস্ত্র আবার ধারালো হচ্ছে, আর ইউরোপে তাদের পথচলার আত্মবিশ্বাস আরও এক ধাপ বেড়ে গেল।

