বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) এবারের আসরে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে যাত্রাটা থমকে গেল রিশাদ হোসেনের। সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে হার দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে তাঁর দল, ফলে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল এই বাংলাদেশি লেগ স্পিনারের। তবে দলের হার ছাপিয়ে আলোচনায় এখন রিশাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স। অস্ট্রেলিয়ার বৈরী কন্ডিশনে একজন লেগ স্পিনার হিসেবে তিনি যে ছাপ রেখেছেন, তা এক কথায় অনবদ্য।
বিদায়ী ম্যাচেও লড়াকু রিশাদ
সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে পাহাড়সম ১৯৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল হোবার্ট হারিকেনস। বোলিংয়ে রিশাদ আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচায় তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। আউট করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ঈশ্বর স্টিভেন স্মিথ এবং অভিজ্ঞ ময়েজেস হেনরিকসকে।
বড় নামগুলোর বিপক্ষে ভয়ডরহীন বোলিং রিশাদকে আলাদা করে চিনিয়েছে। পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ বলে ১১ রানের একটি ছোট্ট ইনিংস খেললেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে মাঠ ছাড়ার আগে রিশাদ বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি লড়াই করতে জানেন।
পরিসংখ্যানের পাতায় রিশাদের আধিপত্য
হোবার্ট হারিকেনসের বিদায়ের দিনেও রিশাদের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে সাফল্য। এবারের আসরে ১২ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি শিকার করেছেন ১৫ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে হোবার্টের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন তাঁর ঝুলিতেই।
শুধু নিজের দলই নয়, বরং পুরো আসরের স্পিনারদের তালিকাতেও রিশাদ আছেন সবার উপরে। ফাইনাল শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত পার্থ স্করচারসের কুপার নোলি এবং অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের লয়েড পোপের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক স্পিনার তিনি।
যেভাবে শুরু হয়েছিল রিশাদ-গল্প
বিগ ব্যাশে রিশাদের শুরুটা অবশ্য খুব একটা নাটকীয় ছিল না। মেলবোর্ন থান্ডারের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩ ওভারে ১৮ রান দিলেও উইকেটের দেখা পাননি। কিন্তু দমে যাননি এই তরুণ। পরের ম্যাচেই মেলবোর্ন স্টারসের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেন। পার্থের গতিময় পিচে পার্থ স্করচারসের ৩ উইকেট শিকার করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন বিশ্ব ক্রিকেটে।
এরপর রেনেগেডসের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট কিংবা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৩ উইকেটের স্পেল—রিশাদ ধারাবাহিকভাবে অধিনায়ককে ভরসা দিয়েছেন। প্রতিটি ম্যাচে মাঝের ওভারে প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট এনে দেওয়ার কাজটা তিনি নিখুঁতভাবে করেছেন।
পুরো আসরে ৪০ ওভার বোলিং করে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৭.৮২, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডে বেশ ঈর্ষণীয়।
আক্ষেপ আর প্রাপ্তির রসায়ন
প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশের ডাক পেয়েই শিরোপার লড়াইয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল রিশাদের সামনে। হারিকেনস ফাইনালে উঠলে হয়তো তাঁর উইকেট সংখ্যা আরও বাড়ত, হয়তো নামটা এককভাবে শীর্ষে থাকত। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা! ফাইনাল খেলা তাই আর হয়ে ওঠেনি।
তবে সত্যটা হচ্ছে, দল হিসেবে হোবার্ট শেষ রক্ষা করতে না পারলেও রিশাদ হোসেন বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্য গর্বের অনেকগুলো মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পিচে যেখানে অভিজ্ঞ স্পিনাররা খাবি খান, সেখানে রিশাদের সাহসী বোলিং এবং নির্ভুল লাইন-লেংথ তাঁকে ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগ করে দেবে এটা প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। তবে এরচেয়েও বড় কথা, বিগ ব্যাশে রিশাদের এই অভিজ্ঞতার আলোয় সবচেয়ে আলোকিত হবে বাংলাদেশ জাতীয় দল।

