বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে বিশ্বকাপ বর্জনে সমর্থন দিলেন নাজাম শেঠি

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের প্রতি সংহতি জানিয়ে টুর্নামেন্ট বর্জন করতে পারে পাকিস্তান। ক্রিকেট মহলে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জনকে এবার সরাসরি সমর্থন দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি। তাঁর মতে, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ যে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তা নীতিগতভাবে সঠিক।

সংবাদমাধ্যমে টেলিকম এশিয়া স্পোর্টর সাথে আলাপকালে নাজাম শেঠি নিজের মতামত তুলে ধরে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ দেখিয়ে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিসিবির পক্ষ থেকে ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি।

আইসিসির কঠোর অবস্থান ও বিকল্পের খোঁজ

বাংলাদেশের প্রস্তাবটি আইসিসির সভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে বাতিল করা হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তাদের পরিবর্তে অন্য একটি দলকে খেলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আইসিসি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট বর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

নাজাম শেঠি মনে করেন, বাংলাদেশের এই অবস্থান যৌক্তিক এবং নীতিগত।
বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত হবে, তবে আমি একে সমর্থন দেব। মহসিন নাকভি খেলাটি বোঝেন এবং সব দিক সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা আছে। তিনি যে সিদ্ধান্তই নেবেন তা সঠিক হবে এবং তাঁর উচিত সেই অবস্থানে অনড় থাকা।”

আইসিসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবিটি আইসিসি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারত বলে মনে করেন নাজাম শেঠি। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বড় সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিয়মিত ভারতের পক্ষ নেয়।

সেঠির ভাষায়, “বিসিবির দাবির পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল। সেখানে উত্তেজনা ও হুমকির আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু আইসিসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। এখানে ভারতের প্রতি এক ধরনের পক্ষপাত ছিল এবং সিদ্ধান্তটি ভারতের ইচ্ছা অনুযায়ীই নেওয়া হয়েছে।”

ডিআরসি ও আইনি লড়াইয়ের পুরোনো তিক্ততা

বিসিবি ইতিমধ্যে আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটি’র (ডিআরসি) হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তবে এই পথে হাঁটতে গিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শেঠি। তিন দফায় পিসিবি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ সংগঠক জানান, এর আগেও ডিআরসিতে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করে হেরেছিল পাকিস্তান।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সংক্রান্ত সেই আইনি লড়াইয়ে পাকিস্তান সফল হতে পারেনি। উল্টো মামলার খরচ হিসেবে পিসিবিকে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার গুণতে হয়েছিল।

এবার বাংলাদেশের অভিযোগের ক্ষেত্রে ডিআরসি কী ভূমিকা নেয় এবং পাকিস্তানও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট বর্জনের পথে হাঁটে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব ক্রিকেটের বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।