অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ২০২৬-এ ৪০০তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের পথে নোভাক জোকোভিচেযে কাউকে হারাতে পারেন জোকোভিচ। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ার তীব্র দাবদাহ যখন মেলবোর্ন পার্ককে পুড়িয়ে মারছিল, ঠিক তখন রড লেভার অ্যারেনার বন্ধ ছাদের নিচে শীতল মাথায় ইতিহাস গড়লেন নোভাক জোকোভিচ। ডাচ প্রতিদ্বন্দ্বী বটিক ফন ডি সান্ডশোপকে ৬-৩, ৬-৪, ৭-৬(৪) গেমে হারিয়ে টুর্নামেন্টের চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই সার্বিয়ান। এই জয়ের মাধ্যমেই টেনিস দুনিয়ায় প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে ৪০০টি গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ জয়ের অবিশ্বাস্য এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।

মাইলফলকের রাতটি জোকোভিচের জন্য দ্বিগুণ আনন্দের। মেলবোর্ন পার্কে এটি ছিল তাঁর ১০২তম জয়, যা কিংবদন্তি রজার ফেদেরারের সবচেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। ক্যারিয়ারের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের মিশনে থাকা জোকোভিচ আবারও প্রমাণ করলেন, বয়সটা তাঁর কাছে শুধুই একটি সংখ্যা।

ড্রেসিংরুমে ফেরার রোমাঞ্চ ও রেকর্ড

ম্যাচ শেষে জোকোভিচ তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “শুরুটা দারুণ হয়েছে। তবে আমি খুব বেশি আগে থেকে নিজেকে উত্তেজিত করতে চাই না। গত বছর আমি শিক্ষা পেয়েছি; কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালে পৌঁছে চোট পেয়ে সব ভেস্তে গিয়েছিল। আমি এখনো এই তরুণদের সাথে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কার্লোস আলকারাজ ও জানিক সিনার এখন অন্য লেভেলের টেনিস খেলছে, কিন্তু আমি এখনো টিকে আছি।”

ম্যাচ চলাকালীন জোকোভিচকে বেশ কয়েকবার মেজাজ হারাতেও দেখা গেছে। দ্বিতীয় সেটে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় রাগে একটি বল সজোরে আঘাত করেন তিনি, যা নেটের কাছে থাকা বল বয়-এর খুব কাছাকাছি দিয়ে যায়। কোড ভায়োলেশন থেকে বেঁচে গেলেও এটি ২০২০ সালের ইউএস ওপেনের সেই ডিফল্ট হওয়ার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছিল।

চোট ও ক্লান্তি জয় করে জয়

তৃতীয় সেটে একবার কোর্টে আছাড় খেয়ে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার উপক্রম হয়েছিল জোকোভিচের। ডান পায়ের ফোস্কার জন্য তাঁকে মেডিকেল টাইম-আউটও নিতে হয়। এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়লেও মানসিক শক্তি দিয়ে টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

জোকোভিচ বলেন, “আমি ভাগ্যক্রমে বড় চোট থেকে বেঁচে গেছি। পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ হতে পারত।”

পরের রাউন্ডে জোকোভিচ মুখোমুখি হবেন চেক টিনেজার ইয়াকুব মেনসিক অথবা ইথান কুইনের। ১০ বারের এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন যেভাবে খেলছেন, তাতে ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামের রেকর্ডে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য এখন সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে।