চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করার পর ইয়ামাল-লেভানডোভক্সির উল্লাস।ম্যাচে গোল করেছেন ইয়ামাল, লেভানডোভস্কি দুজনেই। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপসেরার মঞ্চে আবারও নিজেদের জাত চেনাল হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনা। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোপেনহেগেনকে হারিয়ে সরাসরি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের চোখধাঁধানো ফ্রি-কিক আর কিশোর তুর্কি লামিনে ইয়ামালের ম্যাজিকে জয়টা এসেছে অনায়াসেই।

এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করলো বার্সা। অন্যদিকে, হার দিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো কোপেনহেগেনকে, যারা ৩১তম স্থানে থেকে প্লে-অফে ওঠার সুযোগও হারিয়েছে।

ম্যাচের শুরুটা কিন্তু বার্সেলোনার জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। ঘরের মাঠে খেলা হলেও ম্যাচের ৪ মিনিটেই স্তব্ধ হয়ে যায় অলিম্পিক স্টেডিয়াম। মাঝমাঠের কাছাকাছি বল পেয়ে মোহাম্মদ এলইউনৌসি দুর্দান্ত এক পাস বাড়ান ১৭ বছর বয়সী ভিক্টর দাদাসনের দিকে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে কোপেনহেগেনকে লিড এনে দেন এই তরুণ।

পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে হানসি ফ্লিকের শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি বার্সা। বিরতির আগে বারবার কোপেনহেগেনের রক্ষণে হানা দিলেও সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় তারা। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযানে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যেতে হয় বার্সেলোনাকে।

বিরতি থেকে ফিরেই বদলে যায় বার্সেলোনার খেলার গতি। দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। লামিনে ইয়ামালের পাস থেকে বল পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন পোলিশ গোলমেশিন রবার্ট লেভানডোভস্কি। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর ১০৭তম গোল, যা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় বার্সার। কিছুক্ষণ পরই স্কোরশিটে নাম লেখান তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। ডি-বক্সের কোনা থেকে তাঁর নেওয়া বাঁকানো শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যখন বার্সার হাতে, তখন পেনাল্টি থেকে ব্যবধান আরও বাড়ান অধিনায়ক রাফিনিয়া। ডি-বক্সের ভেতর লেভানডোভস্কিকে ফাউল করায় রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করতে ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠোকেন বদলি হিসেবে নামা মার্কাস র‍্যাশফোর্ড। মাঠে নামার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক দর্শনীয় ফ্রি-কিক নেন তিনি। কোপেনহেগেনের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়েই বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগ মৌসুমে র‍্যাশফোর্ডের পঞ্চম গোল। ইউনাইটেড থেকে ধারে এসে বার্সার জার্সিতে নিয়মিত পারফর্ম করে ভক্তদের মন জয় করে নিচ্ছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

কোপেনহেগেনের বিদায় ও বার্সার তৃপ্তি

ম্যাচের শেষ দিকে কোপেনহেগেন একটি গোল দিলেও সেটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণের তীব্রতা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেয়েছে ডেনিশ ক্লাবটি। ভালো শুরু করেও প্লে-অফে জায়গা করতে না পারার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।

অন্যদিকে, হানসি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা এখন অনেক বেশি পরিণত। সরাসরি শেষ ১৬-তে জায়গা করে নেওয়াটা তাদের শিরোপা জয়ের মিশনে বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।