লেস্টার সিটির মেডিকেল রুম এখন কার্যত খেলোয়াড়দের ভিড়ে ঠাসা। অন্তর্বর্তী কোচ অ্যান্ডি কিং যখন দলকে গুছিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এল সহ-অধিনায়ক হামজা চৌধুরীর চোট। গত শনিবার চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায়। এই দৃশ্য কেবল ‘ফক্স’ সমর্থকদের নয়, বরং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কপালেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
হাঁটুর চোট গুরুতর হওয়ায় এই সপ্তাহেই হামজার হাঁটুতে স্ক্যান করার কথা রয়েছে। তবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ম্যাচের পর হামজাকে হাঁটুর ব্রেস পরা অবস্থায় দেখা গেছে।
লেস্টারের অন্তর্বর্তী কোচ অ্যান্ডি কিং সরাসরি শঙ্কার কথা জানিয়ে বলেছেন, “ম্যাচের পর আমি চৌধুরীকে হাঁটুর ব্রেস পরা দেখেছি। আমার মনে হচ্ছে, এটি দ্রুত সেরে ওঠার মতো কোনো চোট নয়।”
ক্লাব ও জাতীয় দলের ওপর প্রভাব
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে লেস্টার সিটি বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বার্মিংহামের বিপক্ষে। দলের অন্যতম কান্ডারি হামজাকে ছাড়া মাঠে নামা লেস্টারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
তবে লেস্টারের চেয়েও বেশি দুশ্চিন্তা কাজ করছে বাংলাদেশ জাতীয় দলকে ঘিরে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষেও প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে লাল-সবুজদের। হামজা চৌধুরী যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান, তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের শক্তি বড়সড় ধাক্কা খাবে।
স্ক্যান রিপোর্টের অপেক্ষা
ঠিক কত দিন হামজাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে স্ক্যান রিপোর্টের পর। যদি লিগামেন্টে বড় কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, তবে হয়তো কয়েক মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে কাটাতে হতে পারে তাকে। বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এখন কেবল প্রার্থনা করছেন যেন রিপোর্ট ইতিবাচক আসে এবং সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগেই ফিট হয়ে ওঠেন এই তারকা মিডফিল্ডার।
লেস্টার সিটি ও বাংলাদেশ—উভয় শিবিরের নজর এখন চিকিৎসকদের রিপোর্টের দিকে। হামজা চৌধুরীর অনুপস্থিতি কেবল মাঠের কৌশলেই নয়, দলের আত্মবিশ্বাসেও বড় প্রভাব ফেলবে।

