ম্যানচেস্টার সিটি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পেপ গার্দিওলার একটি ছবি।যুদ্ধের বিপক্ষে পেপ গার্দিওলা। ছবি: গেটি ইমেজেস

মাঠের কৌশলে তিনি সেরা, কিন্তু মাঠের বাইরে তিনি এক সংবেদনশীল মানুষ। ম্যানচেস্টার সিটি ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা এবার ফুটবল ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা অমানবিক সংঘাত, যুদ্ধ এবং নিরীহ মানুষের মৃত্যু নিয়ে আবেগঘন ও সাহসী বক্তব্য দিয়েছেন। ফিলিস্তিন, ইউক্রেন থেকে শুরু করে সুদান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড—সবকিছু নিয়েই নিজের ‘কষ্ট’ ও ‘প্রতিবাদ’ ব্যক্ত করেছেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড।

‘আমি চুপ থাকব না’

নিউক্যাসলের বিপক্ষে কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা ফুটবল নিয়ে আলোচনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন বিশ্ব পরিস্থিতিকে।

তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, ইউক্রেনে যা ঘটছে কিংবা সুদানে—সবই আমাদের চোখের সামনে। প্রতিদিন যখন মা-বাবা কিংবা শিশুদের আর্তনাদ দেখি, তখন আমার খুব কষ্ট হয়। হাজার হাজার নিষ্পাপ মানুষের মৃত্যু আমাকে পোড়ায়। আমি চুপ থাকব না। আমি সবসময় তাদের পাশে দাঁড়াব।”

গার্দিওলা গত শুক্রবার একটি চ্যারিটি কনসার্টে ফিলিস্তিনি শিশুদের সমর্থনে কথা বলেছিলেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “একজন মানুষ হিসেবে এসব দেখে প্রভাবিত না হওয়া অসম্ভব। এটি ঠিক বা ভুলের প্রশ্ন নয়, এটি মানবতার প্রশ্ন।”

সংবাদমাধ্যমের প্রতি প্রশ্ন

১০ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো সাংবাদিক তাকে মানবিক বিপর্যয় নিয়ে প্রশ্ন করায় কিছুটা অবাকও হন গার্দিওলা। তিনি মিডিয়াকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “মনে হচ্ছে আপনাদের এসব জিজ্ঞেস করার অনুমতি নেই। কিন্তু সারা বিশ্বের এসব ভয়াবহ ছবি দেখে কার মন কাঁদবে না? তথ্য এখন আমাদের হাতের মুঠোয়, আপনি কি এসব এড়িয়ে যেতে পারেন?”

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে অভিবাসীদের আসার প্রসঙ্গ টেনে গার্দিওলা বলেন, “মানুষ যখন দেশ ছেড়ে সমুদ্রে জীবন বাজি রেখে নৌকায় ওঠে, তখন সে ঠিক না ভুল সেই তর্কে না গিয়ে আগে তাকে উদ্ধার করুন। একজন মানুষকে রক্ষা করা এবং মানুষের জীবন বাঁচানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কড়াকড়ির সময় ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনা এবং ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে গার্দিওলা স্পষ্ট করে বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য কথা বলতে হবে। কথা না বললে কিছুই বদলাবে না। আমি চাই আমার সন্তান এবং আপনাদের পরিবারের জন্য একটি সুন্দর সমাজ তৈরি করতে।”

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের ‘মিলিটারাইজেশন’ বা সশস্ত্র অবস্থান নিয়ে ফুটবল ফ্যান গ্রুপগুলো যখন উদ্বিগ্ন, তখন গার্দিওলার এই মন্তব্য ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেখানেই অন্যায় দেখবেন, সেখানেই তিনি সরব হবেন।