সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। ৪১ বছরে পা দেওয়ার প্রাক্কালে এই পর্তুগিজ মহাতারকা সৌদি ফুটবলের বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘রেকর্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুনে ইউরোপীয় মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন সিআর সেভেন।
কেন এই অসন্তোষ?
রোনালদোর ক্ষোভের মূল কেন্দ্রে রয়েছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (PIF)। তার অভিযোগ, দলবদলের বাজারে আল হিলাল বা আল ইত্তিহাদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোকে যেভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, আল নাসর সে তুলনায় অবহেলিত।
সম্প্রতি আল হিলাল করিম বেনজেমাকে দলে ভিড়িয়েছে এবং আল ইত্তিহাদ মোনাকোর প্রতিভাবান তরুণ ইলিনিখেনার মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে দল শক্তিশালী করেছে। বিপরীতে, আল নাসরের শীতকালীন দলবদল ছিল একেবারেই ম্লান।
রোনালদো বিশ্বাস করেন, জাতীয় শিরোপার দৌড়ে ভারসাম্য বজায় রাখার অজুহাতে তার দলকে বড় তারকা কিনতে বাধা দিচ্ছে পিআইএফ। উল্লেখ্য, বর্তমানে আল হিলাল থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে আল নাসর।
নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতে আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে আল নাসরের হয়ে মাঠে নামেননি রোনালদো। ২০৩৪ বিশ্বকাপের দূত এবং সৌদি লিগের বিশ্বব্যাপী প্রসারে নিজের অগ্রণী ভূমিকার কথা মাথায় রেখে ফেডারেশনের কাছ থেকে আরও বেশি সমর্থন ও সম্মান প্রত্যাশা করেন তিনি।
সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা
যদি আল নাসরের সঙ্গে জুনে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে রোনালদোর সামনে দুটি প্রধান পথ খোলা রয়েছে:
১. মেজর লিগ সকার (MLS): ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় লিওনেল মেসির পথ অনুসরণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে পারেন তিনি।
২. ইউরোপে প্রত্যাবর্তন: চল্লিশে পা রেখেও আকাশছোঁয়া ফিটনেস বজায় রাখা রোনালদো এখনো ইউরোপের কোনো প্রতিযোগিতামূলক প্রজেক্টে জায়গা পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
৫০ মিলিয়ন ইউরোর শর্ত: তবে রোনালদোকে দলে ভেড়ানো মোটেও সস্তা হবে না। চুক্তি শেষ হওয়ার আগে তাকে নিতে হলে যেকোনো আগ্রহী ক্লাবকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৫ কোটি ইউরো) রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করতে হবে।
এখন দেখার বিষয়, ফুটবল বিশ্বের এই মহাতারকা কি সৌদি আরবের মরুদ্যানেই শেষ হাসি হাসবেন, নাকি নতুন কোনো মহাদেশে গড়বেন নতুন ইতিহাস।

