বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর অধ্যায় কি তবে শেষ হতে চলেছে? আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর ইঙ্গিত থাকলেও, জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক আর লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্বে থাকতে ইচ্ছুক নন। ইতোমধ্যে তিনি বিসিবিকে চিঠি দিয়ে নিজের এই অনাগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
নেপথ্যে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও বিদেশ সফর
গাজী আশরাফ হোসেনের এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যস্ততা। বিসিবিকে দেওয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আগামী বছরের শুরু থেকেই তিনি ব্যক্তিগত কাজে পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। এছাড়া চলতি বছরের বাকি দশ মাসের একটি বড় সময় তাঁকে দেশের বাইরে কাটাতে হবে।
এই অবস্থায় প্রধান নির্বাচকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফুল-টাইম পদে থেকে দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করছেন।
‘নতুন সংস্কৃতির’ ডাক
ব্যক্তিগত কারণ ছাড়াও দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে একটি আদর্শিক যুক্তি দিয়েছেন গাজী আশরাফ। তিনি মনে করেন, নির্বাচক প্যানেলের মতো জায়গায় দীর্ঘ সময় জেঁকে না বসে পরিবর্তনের ধারা থাকা উচিত।
তাঁর ভাষ্যমতে, “আমার মনে হয়, একই পদে লম্বা সময় না থাকার একটা সংস্কৃতি তৈরি হওয়া দরকার।” তিনি আরও পরিষ্কার করেন, লম্বা চুক্তিতে না গেলেও বোর্ডের বিশেষ প্রয়োজনে স্বল্প মেয়াদে (২-৩ মাস) পরামর্শক বা সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করতে তাঁর আপত্তি নেই।
বিসিবির অবস্থান ও বর্তমান সমীকরণ
গাজী আশরাফ হোসেন ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অধীনে দুই বছরের চুক্তিতে প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পান। তৎকালীন বোর্ড তাঁকে বোর্ড পরিচালকের সমমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিল।
বর্তমান ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান নাজমূল আবেদীন ফাহিম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মাস শেষে বোর্ডের চাহিদা এবং লিপুর ব্যক্তিগত ইচ্ছার সমন্বয় ঘটিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিসিবি বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে তাঁকে অন্তত আরও দুই-তিন মাস দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করেছে। গাজী আশরাফও জানিয়েছেন, তাঁর ‘সীমিত সক্ষমতার’ মধ্যে বোর্ডকে সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত, তবে তা কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে নয়।

