আধুনিক ক্রিকেট মানেই গ্যালারিতে বল আছড়ে পড়ার দৃশ্য। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট তো দিন দিন কেবল ব্যাটারদের মাসল পাওয়ার প্রদর্শনীতে পরিণত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বকাপের প্রথম ৩২টি ম্যাচ অন্তত সেই সাক্ষ্যই দিচ্ছে। যে হারে বল সীমানা ছাড়া হচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে ২০২৪ সালে গড়া ছক্কার পাহাড় এবার টপকে যাবে খুব সহজেই।
পরিসংখ্যানের লড়াই: ২০২৪ বনাম ২০২৬
২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট ৫২টি ম্যাচে ৫১৭টি ছক্কা হয়েছিল, যা ছিল এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। কিন্তু এবারের আসর যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে সেই রেকর্ড এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
২০২৪ বিশ্বকাপ: ৫২ ম্যাচে ৫১৭ ছক্কা (ম্যাচ প্রতি ৯.৯৪টি)।
২০২৬ বিশ্বকাপ (৩২ ম্যাচ পর্যন্ত): ৪৩১ ছক্কা (ম্যাচ প্রতি ১৩.৪৭টি)।
বাকি থাকা ২৩টি ম্যাচে যদি এই ১৩.৪৭ গড়ের ধারা বজায় থাকে, তবে টুর্নামেন্ট শেষে ছক্কার সংখ্যা ৭০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে!
স্ট্রাইক রেটেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন
শুধু ছক্কার সংখ্যাই নয়, ব্যাটারদের আগ্রাসনও বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। গত বিশ্বকাপে ব্যাটারদের সমন্বিত স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৯.৯৬। কিন্তু এবারের আসরে তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৪২-এ। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো এক আসরে এটিই ব্যাটারদের সর্বোচ্চ সমন্বিত স্ট্রাইক রেট।
ফিরে দেখা: অতীতের ছক্কা পুরাণ
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ছক্কার লড়াই সবসময় এমন জমজমাট ছিল না।
সর্বোচ্চ ছক্কা: ২০২৪ ও ২০২৬ আসর বাদে ৪০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেছিল কেবল ২০২১ বিশ্বকাপ।
২৭ ম্যাচের যুগে সেরা: ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত আসরগুলো ২৭ ম্যাচের ছিল। এর মধ্যে ২০১০ সালে সর্বোচ্চ ২৭৮টি ছক্কা হয়েছিল।
সবচেয়ে শান্ত আসর: ২০০৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ব্যাটাররা ছিলেন সবচাইতে মিতব্যয়ী। সেবার ২৭ ম্যাচে ছক্কা হয়েছিল মাত্র ১৬৬টি।
রেকর্ড কি ভাঙবে?
এখন পর্যন্ত হওয়া ৩২ ম্যাচে ৪৩১টি ছক্কা হয়ে গেছে। রেকর্ড ভাঙতে প্রয়োজন আর মাত্র ৮৭টি ছক্কা। হাতে আছে ২৩টি ম্যাচ। অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি মাত্র ৩.৮টি ছক্কা হলেই ২০২৪ সালের রেকর্ড ভেঙে যাবে। বর্তমানের ১৩.৪৭ গড় বিবেচনা করলে সুপার এইট শুরু হওয়ার আগেই হয়তো নতুন ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে।

