২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।বিশ্বকাপে ইরানের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা। ছবি: এএফপি

২০২৬ বিশ্বকাপের আর মাত্র ১০০ দিনের মতো বাকি, ঠিক এমন সময়ে বড় ধরণের সংকটে পড়েছে ইরান ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় এই মেগা ইভেন্টে ইরান শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ফুটবল ফেডারেশন এই ইঙ্গিত দিয়েছে।

মেহদি তাজের বিস্ফোরক মন্তব্য

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ক্রীড়া পোর্টাল ‘ভারজেশ থ্রি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর আমাদের কাছ থেকে বিশ্বকাপের বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা আমাদের মাতৃভূমিতে আঘাত হেনেছে, যা বিনা জবাবে পার পাবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আমাদের বিশ্বকাপ খেলা অসম্ভব।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, ফেডারেশন এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। দেশটির শীর্ষ ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে জাতীয় দলের ভাগ্য।

খামেনির মৃত্যু ও ৪০ দিনের শোক

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে বর্তমানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। এই শোক চলাকালীন ইরানে সব ধরণের খেলাধুলা ও ঘরোয়া লিগ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। শোকের এই দীর্ঘ সময় দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি লিগে খেলা বিদেশি খেলোয়াড়রাও বর্তমানে ইরান ছাড়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

বিশ্বকাপের সূচি ও ট্রাভেল ব্যান

বিশ্বকাপে ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে। সূচি অনুযায়ী তাদের ম্যাচ:

১৫ জুন: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (ক্যালিফোর্নিয়া)

২১ জুন: বেলজিয়ামের বিপক্ষে (ক্যালিফোর্নিয়া)

২৬ জুন: মিসরের বিপক্ষে (সিয়াটল)

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ট্রাভেল ব্যানের কারণে ইরানি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এমনিতেই কঠিন ছিল। এখন যুদ্ধের এই ভয়াবহতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ফিফার পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প দল

ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী এশীয় অঞ্চলের অন্য কোনো দেশকে (যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইরাক) তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে। তবে ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ফিফার জেনারেল সেক্রেটারি ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব কেবল ফুটবলে নয়, ক্রিকেট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টেও পড়তে শুরু করেছে। পুরো বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ইরান ও ফিফার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।